মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, সিঙ্গাপুরে সাজা ভোগ আর এক বছরের নিখোঁজ জীবনের ইতি টেনে অবশেষে ভিটায় ফেরা সেই প্রবাস ফেরত যুবক রাসেল সিকদারের পাশে দাঁড়িয়েছে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন। বার্তাবাজারে সংবাদ প্রকাশের পরপরই ঋণগ্রস্থ পরিবারের বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব ওই যুবক রাসেল ও তার অসহায় পরিবারের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চান্দুলিয়া গ্রামের ফালু সিকদারের ছেলে রাসেল সিকদার এক দশক আগে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের আইনি জটিলতা এবং পাসপোর্ট নবায়ন সংক্রান্ত অসুবিধায় পড়ে এক অজানা ভুলের মুখোমুখি হন তিনি।
মোটরসাইকেল চালিয়ে পথ হারিয়ে ভুলবশত সিঙ্গাপুর সীমান্তে ঢুকে পড়ায় নথিপত্র না থাকায় সেদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন রাসেল। ৮০ দিনের জেল ও পরবর্তী সময়ের ডিটেনশন ক্যাম্প জীবন মিলিয়ে দীর্ঘ এক বছর পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি। স্বজনরা যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই আলো নিয়ে আসে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের দ্রুত পদক্ষেপ ও তৎপরতায় পরিবারের খোঁজ মেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে টিকিটের ব্যবস্থা করা হলে গত ২৪ জুলাই রাতে দেশে ফেরেন রাসেল।
এই মানবিক ঘটনা ও রাসেলের চরম দুর্দশার কথা বার্তা বাজারে বিস্তারিত গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হলে স্থানীয় ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদটিকে প্রাধান্য দিয়ে সোমবার ইউএনও খান সালমান হাবীব প্রবাস ফেরত রাসেল সিকদারকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
প্রশাসনিক এই উদ্যোগে অভিভূত রাসেলের পরিবার। রাসেলের স্বজনরা জানান, সন্তানকে ফিরে পাওয়াই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া, তার ওপর প্রশাসনের এই আর্থিক সহায়তা তাদের পুনর্বাসনে বড় ধরণের ভরসা জুগিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত রাসেলের পরিবারকে খুঁজে বের করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করি। বার্তাবাজারে তার বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি জানার পর আজ তাকে প্রাথমিক আর্থিক সাহায্য দেওয়া হলো। পরবর্তীতে সরকারি অনুদান বা বরাদ্দ এলে রাসেলকে আরও সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া সে যদি ভবিষ্যতে কোনো ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ উপায়ে পুনরায় বিদেশে যেতে চায়, তবে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এসময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোবারক হোসেন, মহিলা বিষয়ক অফিসার শারমিন সিদ্দিকা, প্রশাসনিক অফিসার মো. জুবদিল খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। তাদের মতে, সঠিক প্রচার ও সরকারি সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো অসহায় নাগরিকের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। রাসেলের এই ফিরে আসা ও সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।






