ময়মনসিংহের ফুলপুরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমনের চারা রোপণ ও পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। আগস্ট মাস শেষ হলেও ভাদ্রের ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে পানির অভাবে কৃষক ক্ষেতে চারা রোপণ করতে পারছেন না।
অন্যদিকে নদী-নালা ও খাল-বিল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় রোপণ করা ক্ষেতও শুকিয়ে যাচ্ছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে,পানির অভাবে অনেক ক্ষেতে রোপণ করা চারা মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে না পেরে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক শ্যালো ও বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চালিয়ে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ডিজেলের চড়া দাম এবং বিদ্যুৎ খরচের কারণে বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ চাষিরা। তার ওপর রয়েছে তীব্র লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা।
পূর্ব বাখাই গ্রামের কৃষক জামাল ভূঁইয়া বলেন,“বৃষ্টি অইতাছে না, হেইডার লাইগা আমন ধান নিয়া খুব বিপদে আছি। জমিত পানি নাই, ধান শুকাইয়া যাইতাছে। বাধ্য অইয়া পাম্প দিয়া পানি দিতাছি, এতে খরচও বাড়তাছে। বৃষ্টি না অইলে এবার ধানের ফলন নিয়া চিন্তায় আছি।”
কৃষকরা জানান, সাধারণত বর্ষার প্রাকৃতিক পানিতেই আমন চাষের চাহিদা মেটে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এ বছর সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত ও ফসল বাঁচাতে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
ফুলপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এ যাবৎ রোপণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে উফশী, এক হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও পাঁচ হজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন চাষ করা হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ২০৭ টন ও চাল ৬০ হাজার ৬৩০ টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদৌসি বলেন “প্রাকৃতিক বৃষ্টির ঘাটতির কারণে আমন রোপণ ও গাছের বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির পানির বিকল্প হিসেবে নদী ও খালের পানি ব্যবহার ও পাম্পের সাহায্যে সেচ দিয়ে জমি ভিজিয়ে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধানের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।”






