সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে টেস্ট করানোর পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাজমুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে অসুস্থতা নিয়ে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক মাত্র এক মিনিটের মধ্যে তার সমস্যার কথা শুনে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) লিখে দেন। পরে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় একজন সহকারী তার হাতে একটি ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দেন।
নাজমুল হাসানের দাবি, ওই সহকারী তাকে বলেন, এই টেস্টগুলো সরকারি হাসপাতালে করলে বেলা ৩টা বেজে যাবে। আমাদের এখানে এসে টেস্ট করান, এই ডাক্তারই আপনাকে দেখবেন। সময়ও কম লাগবে।
এ ঘটনায় তার মনে প্রশ্ন দেখা দেয়, চিকিৎসক যে পরীক্ষাগুলো লিখে দিয়েছেন সেগুলো প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় ছিল কি না, নাকি রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পাঠিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও তা দেখার যেন কেউ নেই। সম্প্রতি বৃষ্টির সময় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের ভেতরে পানি পড়ার ঘটনাও রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীসেবা এবং চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রোগীদের একটি অংশের দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।






