ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ এএম

বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা এলাকার সালথা-ময়েনদিয়া সড়কের ওপর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ওই সড়কে অন্তত তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে সালথা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও সোনাপুর ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু ও সালথা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াতের সঙ্গে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা এবং বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল।

এর মধ্যে সরোয়ার হোসেন ও অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কয়েক মাস ধরে ওই ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণাও করে আসছেন। যে কারণে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চলমান বিরোধের মধ্যে বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের সমর্থক যোগারদিয়া গ্রামের টুকু মাতুব্বরকে মারধর করার অভিযোগ উঠে লাবলুর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে এ নিয়ে উভয় পক্ষের স্থানীয় কয়েক গ্রামের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফুকরা এলাকার সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৮ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও নগরকান্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে সংঘর্ষের কারণে সালথা-ময়েনদিয়া সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

সংঘর্ষের বিষয়ে সোনাপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, আমি এলাকায় দল পরিচালনা করি না। আমাদের সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা দল পরিচালনা করেন। আমি তার দলের একজন সমর্থক। তবে যতটা শুনেছি, আমাদের দলের লোকজনকে জোরপূর্বক লাবলু ও জয়নাল তাদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করায় এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াত বলেন, আমি কাউকে দলে ভিড়াতে কোনো প্রকার চাপ দিইনি। উল্টো ফুকরা গ্রামের ফজলু ও টুকু মাতুব্বর আমার চাচাতো ভাই হৃদয়কে শার্টের কলার ধরেন, পরে বাজারে থাকা লোকজন তাদের ধাওয়া দেন। পরে তারা আবার ঢাল-সড়কি নিয়ে এসে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করলে আমাদের লোকজন প্রতিহত করেন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বড় ধরনের সহিংসতার আগেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ওই এলাকা এখন শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন