ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

উচ্ছেদের পরও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক দখল করে বাজার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

উচ্ছেদের পরও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক দখল করে বাজার

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চন্দ্রা মহাসড়কের ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল করে আবারও বসেছে কাঁচাবাজার। ফলমূল, মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে সড়কের একাংশেও। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যান চলাচলের জায়গা। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে হাঁটতে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মার্চে প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত তদারকি না থাকায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল করে ব্যবসা শুরু হয়েছে। ফলে আগের অবস্থায় ফিরে গেছে পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে ফুটপাত ও সার্ভিস লেনের বিভিন্ন অংশে সারিবদ্ধভাবে বসেছে ফলমূল, মাছ ও সবজির দোকান। দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় এবং সড়কের ওপর পণ্য রাখায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে সার্ভিস লেনে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের মূল সড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

একজন পোশাকশ্রমিক বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যেতে অনেক কষ্ট হয়। ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় রাস্তায় নেমে হাঁটতে হয়। গাড়ির ভিড়ে অনেক ভয় লাগে। অনেক সময় কাজে যেতেও দেরি হয়ে যায়।”

আরেক শ্রমিক বলেন, “সকাল ও বিকেলে অনেক জ্যাম থাকে। ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।”

শুধু পথচারী নয়, যানবাহনের চালকেরাও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, “সার্ভিস লেন দখল হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। সব সময় জ্যাম লেগেই থাকে। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়।”

একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাত তো হাঁটার জন্য। কিন্তু এখন সেখানে বাজার বসেছে। আমাদের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, যা খুবই বিপজ্জনক।”

স্থানীয়দের মতে, পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকার আশপাশে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে সকাল ও বিকেলে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। এর মধ্যে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে বাইপাইল এলাকায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় সড়কটিতে যানবাহনের চাপ ও চলাচল ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সার্ভিস লেন দখল করে বাজার বসায় যানজট নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর যাতে নতুন করে কেউ ফুটপাত ও সড়ক দখল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বসা বাজার দ্রুত উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন পথচারী ও যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে পুলিশের ওসি সওগাতুল আলম বলেন, কিছু স্থানীয় সুবিধাভোগী লোকজনের কারণে বাজারটি উচ্ছেদের পরও আবার বসে যায়। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত ও সার্ভিস লেন সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এ এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন