নেত্রকোণায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিলের কয়েক ঘণ্টার পর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোণা জেলা শহরের সাতপাই এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌরব আহমেদ খান।
মিছিলের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় নেত্রকোণা পৌরসভার পূর্ব চকপাড়া এলাকায় গৌরব আহমেদ খানের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। গৌরবের পরিবারের দাবি, রাতের অন্ধকারে একদল লোক বাসায় ঢুকে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
গৌরব আহমেদ খানের বাবা ফরহাদ আহমেদ বলেন, তার ছেলে রাজনীতি করলেও খারাপ রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তিনি ছেলেকে রাজনীতি থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন বলেও জানান। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে তার ছেলে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাপড়, চালসহ নানা সামগ্রী গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করতেন।
গৌরবের মা শাহানাজ পারভিন অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে মিছিল করার পরদিনই তাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা রাতের অন্ধকারে এবং এলাকার বাতি নিভিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এ ছাড়া ফ্রিজ, চুলা, থালা-বাসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শাহানাজ পারভিন বলেন, হামলার ঘটনায় তার পরিবারের থাকার মতো পরিস্থিতিও নেই। ঘরের বিছানা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি বলে জানান।
ছেলের মিছিল করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ছেলে দেশের ও মানুষের ভালো চায় বলেই মিছিলে অংশ নিয়েছে। এ কারণে তার পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কারও প্রতি প্রতিশোধের কথা না বলে শাহানাজ পারভিন বলেন, তিনি ঘটনার বিচার চান। একই সঙ্গে হামলাকারীদের হেদায়েত ও সুস্থ জীবন কামনা করেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সরকারি কলেজের সামনে ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীকে মিছিল করতে দেখা যায়। পুলিশ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে মিছিলের প্রেক্ষিতে অপর পক্ষের বাড়িঘরে হামলার বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






