খাওয়া ঠিক নয় মুরগির শরীরর যে ১০ অংশ
এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : সহজলভ্য ও পুষ্টিকর প্রোটিনের উৎস হিসেবে অনেকের খাদ্যতালিকার শীর্ষস্থানে থাকে মুরগির মাংস । তবে এই মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হলেও মুরগির শরীরের সব অংশ মানুষের শরীরের জন্য নিরাপদ নয়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা কিংবা রান্নার অসাবধানতায় কিছু নির্দিষ্ট অংশ থেকে মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির মাথা, গিলা-কলিজা এবং কিডনি মূলত শরীরের বর্জ্য ও টক্সিন ফিল্টার করে। বাণিজ্যিক ফিডে থাকা কোনো ক্ষতিকারক উপাদান বা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এসব অংশে জমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ক্ষতিকর উপাদান বা কীটনাশকের ঝুঁকি এড়াতে এসব অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মুরগীর যে ১০ টি অংশ খাওয়া থেকে বিরত থাকা বা সতর্ক থাকার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন—
মুরগির চামড়া
অনেকের প্রিয় হলেও মুরগির চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে চর্বি ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে। নিয়মিত বা অতিরিক্ত চামড়াসহ মাংস খেলে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
ফুসফুস
মুরগির ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে প্রচুর অণুজীব থাকে। ফুসফুস মুরগির শরীরের এমন গভীরে থাকে, যা সাধারণ রান্নার স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত নাও হতে পারে।
অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি
মুরগির অন্ত্র ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ থাকে। এটি সঠিকভাবে পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। নাড়িভুঁড়িতে সালমনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাকটারের মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা মারাত্মক ফুড পয়জনিং ঘটাতে পারে।
মাথা
বাণিজ্যিক খামারের ফিডে ব্যবহৃত কীটনাশক বা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ মুরগির মাথায় জমা হতে পারে। এসব রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে শরীরে জমা হয়ে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
পা
মুরগির পা মাটির সংস্পর্শে থাকায় এতে প্রচুর জীবাণু লেগে থাকে। রান্নার আগে এটি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার না করলে ক্ষতিকর জীবাণু পেটে গিয়ে পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
হৃদপিণ্ড
মুরগির হৃদপিণ্ডে পুষ্টি থাকলেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত হৃদপিণ্ড খেলে হরমোনজনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গিলা
মুরগির গিলা বা পাকস্থলীতে ছোট পাথর, বর্জ্য বা ময়লা জমে থাকতে পারে। এটি অত্যন্ত ভালোভাবে পরিষ্কার ও সিদ্ধ না করে খেলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
গলা
মুরগির গলার অংশে অন্যান্য জায়গার তুলনায় জীবাণুর উপস্থিতি বেশি থাকে। অনেক সময় ভালো করে সিদ্ধ করার পরেও কিছু জীবাণু থেকে যায়। তাই গলার অংশ এড়িয়ে চলা কিংবা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সিদ্ধ করা জরুরি।
ডানা
মুরগির ডানায় প্রোটিনের চেয়ে চর্বি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় রান্না না হলে এটি থেকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মুরগির অস্থিমজ্জা
মুরগির হাড় উপকারী হলেও এতে থাকা ব্লাড বা কাঁচা অংশ সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। রান্নার সময় পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় হাড়ের ভেতর পর্যন্ত সেদ্ধ না হলে এতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, খামারে বা জবাইয়ের সময় পরিপাকতন্ত্রের বর্জ্য ও ব্যাকটেরিয়া মাংসের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে কাঁচা মাংস সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় সিদ্ধ করে রান্না করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।






