বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য ২০২৫ সাল হতে যাচ্ছে এক বিশেষ সময়। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১০ জুন এবং ভুটানের বিপক্ষে ৪ জুনের প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে বাফুফে যে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, তা জাগিয়েছে নতুন আশার আলো।
এই দলে জায়গা পেয়েছেন ফুটবল ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকা তিন নতুন নাম—হামজা চৌধুরী, সামিত সোম ও ফাহামিদুল ইসলাম। এই তিনজনই বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর, যিনি এরই মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। কানাডার পেশাদার লিগে খেলা মিডফিল্ডার সামিত সোম-এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজও সম্পন্ন। তাকে নিয়েও দেখা যাচ্ছে বড় প্রত্যাশা। ইতালির একটি ক্লাবের হয়ে খেলা তরুণ ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল বর্তমানে ঢাকায়, জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ৩০ মে থেকে। ইতোমধ্যে ফাহামিদুল ঢাকায় পৌঁছেছেন, যিনি রোম থেকে সরাসরি ঢাকায় এসে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। হামজা ঢাকায় আসবেন ২ বা ৩ জুনের মধ্যে এবং সামিতের আগমন প্রত্যাশিত ৪ জুন।
দলে দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সুমন রেজা। তবে ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দলে থাকলেও এবারের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন চন্দন রায়।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়েছে সারা দেশে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের টিকিট পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সমর্থকেরা। অনলাইনে মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ—সব মাধ্যম ব্যবহার করেও অনেকেই টিকিট কিনতে পারেননি। টিকিফাই কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে, সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াড (২৬ জন)
গোলরক্ষক:
মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদি হাসান শ্রাবণ
রক্ষণভাগ:
শাকিল আহাদ তপু, জাহিদ হাসান শান্ত, রহমত মিয়া, ঈসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, তারিক কাজী, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন
মধ্যমাঠ:
মোহাম্মদ হৃদয়, সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি, সোহেল রানা, মুজিবুর রহমান জনি, শেখ মোরসালিন, জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, সামিত সোম
আক্রমণভাগ:
ফাহামিদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রাকিব হোসেন, ইমন শাহরিয়ার, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আল আমিন, সুমন রেজা
তিন অভিবাসী তারকা ও স্থানীয় প্রতিভাদের নিয়ে গড়া এই স্কোয়াড ঘিরে ফুটবল সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। নতুন মুখের আগমনে অনেকে এটিকে দেখছেন একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে। এখন দেখার পালা—এই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেয় সবুজ ঘাসে।






