ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বিসিবি নির্বাচন: খুলনা বিভাগ প্রতিমন্ত্রীর ভাই প্রার্থী, এমপির ভাই ভাতিজা ভোটার

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

বিসিবি নির্বাচন: খুলনা বিভাগ প্রতিমন্ত্রীর ভাই প্রার্থী, এমপির ভাই ভাতিজা ভোটার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির নির্বাচনে খুলনা বিভাগের পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবি নির্বাচনে ওই তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তিন প্রার্থী হলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বড় ভাই শান্তনু ইসলাম সুমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সদস্য আবদুস সালাম।

তিন প্রার্থীর মধ্যে আবদুস সালাম ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিন প্রার্থী বাদে নির্বাচনে ভোট দেবেন আরও আটজন। তারা হলেন নড়াইলের সংসদ সদস্য (এমপি) বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের ভাই ও কালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠু বিশ্বাস, মাগুরার এমপি মনোয়ার হোসেন খানের ভাতিজা রুবাইয়াত হোসেন খান, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির নেতা ও সাবেক খেলোয়াড় রাজু আহমেদ, মেহেরপুরের ক্রীড়াবিদ হাসিবুর জামান এবং বাগেরহাটের সন্তান ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেন।

ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিসিবি নির্বাচনে খুলনা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠকরাই কাউন্সিলর বা প্রতিনিধি হতেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় নেতাদের কাউন্সিলর বানানো শুরু হয়।

২০১২ সালে বিসিবি নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও খুলনা বিভাগ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এবং যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ভাই কাজী এনাম আহমেদ। পরে এই ধারা থেকে বের হতে পারেনি বিসিবি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই ধারার অবসান চেয়েছিলেন ক্রীড়া সংগঠকরা। মর্জিমতো কাউন্সিলর তৈরির অভিযোগের মুখে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেয় বর্তমান বিএনপি সরকার। তবে এবার যে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে, তাতেও রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে।

খুলনা বিভাগের ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুলনা বিভাগ ও ১০টি জেলা থেকে যে ১১ জন কাউন্সিলর চূড়ান্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজন। বাকি দুজন ক্রীড়া সংগঠক হলেও তাদের দলীয় পরিচয় আছে। অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজন বিএনপি নেতা, একজন স্থানীয় এমপির ভাই, একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাই এবং একজন এমপির ভাতিজা। তাদের বেশির ভাগই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত ছিলেন না। জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচনও করেননি অনেকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিবির তপশিল ঘোষণার পরই জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় এমপি ও বিএনপি নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে নাম পাঠিয়েছেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে সেই নামই তিনি বিসিবিতে পাঠিয়েছেন। তবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ও ভোটারদের দাবি, নিজেদের ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের কারণেই তাদের কাউন্সিলর করা হয়েছে।

প্রার্থীদের মধ্যে শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, ‘নিজে খেলোয়াড় ছিলাম, দীর্ঘদিন ধরেই যশোরের ঘোপ ক্রীড়া চক্রসহ বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিগত সরকার আমাদের কোথাও দাঁড়াতে দিত না। এ জন্য ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারিনি।’

শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমি মোহামেডান ক্লাবের আজীবন সদস্য। সব সময় খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এ জন্যই আমাকে কাউন্সিলর ও পরিচালক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গার আবদুস সালাম বলেন, ‘৩৬ বছর ধরে ক্রিকেট, ফুটবল, একাডেমি, আম্পায়ারসহ খেলাধুলা নিয়েই আছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। ১১ জনের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে আমার সম্পৃক্ততা বেশি।’

নড়াইলের এমপির ভাই আসজাদুর রহমান মিঠু বিশ্বাস বলেন, ‘কাউন্সিলর করার বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি এখনও সবুজ সংঘ ও বড়দিয়া ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি। এই অঙ্গনে আমি যত কাজ করেছি, অন্যরা এত করেনি।’

মাগুরার এমপির ভাতিজা রুবাইয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হিসেবে মাগুরায় খেলাধুলার জন্য অনেক কিছু করেছি। এমপিএল লীগের ঘোষণা দিয়েছি। এখানকার ক্রীড়া সংগঠকরাই সবাই মিলে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। শুধু চাচার প্রভাবের কথাটি সঠিক নয়।’

বিভাগের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম হোসেন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর, খুলনা মোহামেডান ক্লাবের সদস্য এবং কমল স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ হিসেবেই আমাকে কাউন্সিলর বানানো হয়েছে।’

সাতক্ষীরার আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, ‘আমি মুন্সিপাড়া যুবসমাজের উপদেষ্টা এবং ইয়ং মুন্সিপাড়া ক্লাবের সভাপতি। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচন করব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠকের ভাষ্য, বিভিন্ন ক্লাবের কমিটিতে বিএনপি নেতারা থাকলেও তাদের দলীয় পরিচয়ই বড়। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে কারও কারও সম্পৃক্ততা লোক দেখানো।

খুলনা বিভাগের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বলেন, রাজনীতিবিদরা ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব নিলে ভালো ফল আনে না। শেখ সোহেল বিসিবির পরিচালক ছিলেন, অথচ খুলনায় তাঁর বাবার নামে তৈরি স্টেডিয়ামে ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। তিনি খেলা আনতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘সবাই পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু সবই আগের মতো চলছে। আমরা এগুলো মেনে নিয়েছি।’

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!