সুপার সাবের গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল আইভরি কোস্ট। তারা সমতা ফেরালেও শেষ দিকে নরওয়েকে নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন আর্লিং হাল্যান্ড। তার গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল দুই দল। তাতে সাফল্য দেখালো হাল্যান্ডরা। অথচ শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম ৩০ মিনিট ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আইভরি কোস্টের হাতেই। গোল করার সম্ভাবনাও তাদেরই বেশি ছিল। কোনানের শট লেগেছিল সাইড নেটে। আর ছয় গজের বক্সে পেপের বাড়ানো বল কাজে লাগাতে পারেননি বনি।
উল্টো ৩৯ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা। ওডেগার্ডের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন নুসা। তার পর ড্রিবলিং করে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। আইভরি কোস্ট গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানার কিছুই করার ছিল না।
এরপর দুই মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দুটি সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। ছয় গজের বক্সে আর্লিং হাল্যান্ডের শট ঠেকিয়ে দেন আগবাদু। এরপর কর্নার থেকে সরলথের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বিরতির পর ৫৬ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল আইভরি কোস্ট। বক্সের ভেতরে পেপের বাঁ পায়ের সামনে বল চলে এসেছিল। প্রথম স্পর্শেই শট নেন তিনি। বলটি নিল্যান্ডকে ফাঁকি দিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ানোর পথে ছিল। তবে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে পা দিয়ে দুর্দান্ত এক সেভ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক।
৬০ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নামেন দিয়ালো। পরে এই সুপার সাবের গোলেই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলেছে। ৭৪ মিনিটে তার চোখধাঁধানো এক গোলে ম্যাচে ফেরে আইভরি কোস্ট। পেপের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে যান দিয়ালো। এরপর মোলার উলফে ও বের্গেকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক দৌড়ে বক্সে ঢুকে দর্শনীয় এক শট নেন তিনি।
১-১ স্কোর লাইনে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তখনই নাটকীয় মোড় নেয় ৮৬ মিনিটে। যার নায়ক আর্লিং হাল্যান্ড। ববের দারুণ এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন বার্গ। এরপর নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন আর্লিং হাল্যান্ডের সামনে। খুব কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। তার পর তো বাকিটা ইতিহাস!
অবশ্য এর পরেও রোমাঞ্চ ছড়ায় শেষ দিকে। ৯০+৭ মিনিটে ম্যাচে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছিল আইভরি কোস্ট। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন দিয়ালো। শক্তিশালী বাঁকানো শটটি গোলের ওপরের বাঁ কোণে যাচ্ছিল। তবে দুর্দান্ত ক্ষীপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক নিল্যান্ড। তাতে নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য।






