কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাসহ মোট ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন শহরের সতাল এলাকার মৃত আতাউর রহমান রঞ্জুর ছেলে ইয়াসিনুর রহমান স্বাধীন (৩২)। পরে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন ভোর আনুমানিক ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলা এলাকার তমালতলা স্কুল থেকে ইউনিক শোরুম পর্যন্ত সড়কে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সমবেত হন। এ সময় তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি, জনমনে ভীতি ছড়িয়ে নাশকতামূলক কর্মকা-ের পরিকল্পনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং সরকারি ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সমবেত ব্যক্তিরা রথখলা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করেন এবং ভাঙচুর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালান। স্থানীয় বাসিন্দারা এতে বাধা দিলে তারা উত্তেজিত হয়ে বিভিন্ন সেøাগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, তুহিন আহমেদ, কৃষিবিদ হুমায়ুন আহমেদ, আল জুবায়েদ খান নিয়াজ, আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন, ফয়েজ উমান খান ও লেলিন রায়হান শুভ্র শাহিন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বহু নেতাকর্মীর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে মামলাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বড় রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে একসঙ্গে আসামি করায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ গ্রহণের পর মামলাটি নিয়মিতভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






