চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মোহাম্মদ সিরাজ নামের এক ভূমি ব্যবসায়ীকে সংঘবদ্ধভাবে বেধড়ক মারধর ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দেওয়া আহমেদ কবির নামের মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে তাকে জালে আটকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ সিরাজ মূলত চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় জায়গা-জমি কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। কাজের সুবাদে পাওয়া কমিশনের টাকায় তার সংসার চলে। প্রায় তিন-চার মাস আগে আহমেদ কবিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকেই ভয়ভীতি দেখিয়ে সিরাজের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করে আসছিলেন কবির। তবে সম্প্রতি তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং সিরাজের কাছে এককালীন ৫০ লাখ টাকা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বসেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিরাজ জানান, গত বুধবার রাতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি বাসা থেকে নিচে নামেন। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে ছিল আহমেদ কবির ও তার ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা সিরাজকে আটকে ৫০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মুহূর্তের মধ্যেই সিরাজের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার (অপহরণ) চেষ্টাও করে চক্রটি। এ সময় সিরাজের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে চাঁদাবাজরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এ ঘটনায় খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সিরাজ। মামলার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। অবশেষে শনিবার বিকেলে লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা আহমেদ কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম রেডিও বার্তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির মামলার ভিত্তিতে আহমেদ কবির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সিরাজ জমি কেনাবেচার কাজ করেন, তাকে টার্গেট করেই এই চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।”
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ কামাল বলেন, “আহমেদ কবির সমাজে নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি মূলত এই চাঁদাবাজি করতেন। চাঁদার দাবিতেই সে দলবল নিয়ে সিরাজের ওপর হামলা চালায়।”
পেশাদার সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে এমন চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






