পঞ্চগড়ের বোদায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের সহায়তায় প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বেংহারি সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হবিবর রহমান।
শিশুটির অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার মেয়েশিশুদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে তিনি প্রতিবারই পার পেয়ে যান।
এদিন সকালে বৃষ্টির কারণে স্কুলে শিক্ষার্থী ও লোকজন কম থাকার সুযোগে ওই ছাত্রীকে দোতলায় ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন স্কুলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি কক্ষে টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন। এ সময় মুহূর্তেই স্কুল প্রাঙ্গণে কয়েকশ মানুষের ভিড় জমে যায় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে “হবিবরের চামড়া, তুলে নেবো আমরা” স্লোগান দিতে শোনা যায়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তবে শুরুতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






