সরকারি অফিস, অথচ ভেতরে যেন এক ক্ষুদ্র ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এমনই এক ব্যতিক্রমী চিত্র চোখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার প্রতিদিন তার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে আসেন এবং সেখানেই তাদের লালন-পালনের ব্যবস্থা করেন—যার প্রভাব পড়ছে দাপ্তরিক কাজে।
আজ বুধবার (প্রায় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কক্ষজুড়ে ছড়িয়ে আছে শিশুদের খেলনা। চেয়ার-টেবিলেই চলছে তাদের দৌড়ঝাঁপ ও খেলাধুলা। এ সময় অফিস সহায়ক রাহিমা সরকারি কম্পিউটারে কার্টুন চালিয়ে শিশুদের ব্যস্ত রাখছেন, পাশাপাশি নিজ হাতে তাদের খাবার খাওয়াচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি একদিনের ঘটনা নয়—প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যায়। সেবা নিতে আসা মানুষ প্রায়ই কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজে না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক সময় তিনি সন্তানদের সঙ্গেই ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে চৌদ্দগ্রামে যোগ দেন শাহানাজ আক্তার। তিনি উপজেলা পরিষদের বাইরে ভাড়া বাসায় থাকেন। বাসায় সহায়ক থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রতিদিন সন্তানদের অফিসে নিয়ে আসেন তিনি। তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে অফিস সহায়ক রাহিমার ওপর।
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মকর্তা নিজ কক্ষে না থেকে পাশের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে তার দুই সন্তানকে বসিয়ে রাহিমা কার্টুন দেখাচ্ছেন। সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে কিছুটা বিব্রত হয়ে দ্রুত কর্মকর্তাকে ডেকে আনেন তিনি।
এ বিষয়ে রাহিমা বলেন, ম্যাডাম ব্যস্ত থাকলে আমি বাচ্চাদের দেখাশোনা করি। তবে এটি নিয়মিত দায়িত্ব কিনা—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার বলেন, সরকারি নিয়ম সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই। তবে নিরাপত্তার জন্যই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসি। বাসায় দীর্ঘ সময় রেখে নিশ্চিন্ত থাকতে পারি না। তিনি আরও জানান, আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকলে রাহিমা সাময়িকভাবে তাদের দেখাশোনা করে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূরুল আমিন বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিসে ব্যক্তিগত কাজ বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা সমীচীন নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি অফিসে এমন চিত্র সেবার মান ক্ষুণ্ন করছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






