বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু আলেম নামধারীর আসল চেহারা জাতির সামনে ফুটে উঠেছে। ড. ইউনূস একজন শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ। তাকে তারা সুদখোর ইউনূস বলেছে। আবার তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, নূন্যতম স্বার্থের জন্য তাকে নবীরতুল্য বলেছে, নবীর ধারাবাহিকতায় আগত একজন ব্যক্তি বলছে। এমন কুফরি বক্তব্য দেয়া হয়েছে। দুনিয়াদার স্বার্থপর ফাউল বক্তাদের হাত থেকে ইসলামকে রক্ষা করা দরকার আছে, ছাত্র সমাজকে রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। প্রত্যেকটি অঞ্চল ভিত্তিক প্রত্যেকটি মসজিদ ভিত্তিক ঈমান রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে আহলে সুন্নাত ওয়ার জামাতের লোকদের।
গতকাল শনিবার বেলা ২টায় স্থানীয় গোয়ালাবাজারের একটি পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ ওসমানীনগর উপজেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, তাফসির মাহফিলে অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। ভোটের স্বার্থে মানুষের মধ্যে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করা হয়েছে। এক কাজ্জাব বলছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা যথেষ্ট বাকি অংশ ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলা প্রয়োজন নেই। নাউযুবিল্লাহ! এমন কুফরি বক্তব্য জাতি দেখছে।
আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, ওসমানীনগরে আমি রাজনীতির মাঠ দখল করতে আসেনি। ঈমানী দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি। আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই। কাউকে কটাক্ষ করে নয়, রাজনীতি থাকবে, রাজনীতির নামে সংগ্রাম থাকবে। পরস্পর বিরোধীতা করবে। আদর্শের অমিল থাকবে। কিন্তু আমাদের আহবান, যারা ইসলামের নামে অপব্যাখ্যা দিচ্ছে তাদের থেকে ঈমানকে হেফাজত রাখুন। ওরা কুফরি বক্তব্য দিচ্ছে।
আজকের দিনে ইসলামের দুর্দিন চলছে। যারা ইসলামী আইনের শরিয়া আইনের স্বপ্ন দেখতেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না যতক্ষণ আউল ফাউলদের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। সারা দেশে ইসলাম কায়েমের নামে সাইনবোর্ডে সয়লাভ হয়ে গেছে। সাইনবোর্ড দিয়ে কি হবে, যদি তোমার কর্মী গরু চোর হয়। পরকীয়াতে লিপ্ত হয়! ইসলামের সাইনবোর্ড দিয়ে কি লাভ? আজ বোডিং এ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকতে পারছে না। মসজিদের ইমামের কাছে নিরাপদ নয়। তাই এই দেশে ইসলামী শরিয়া আইন দেখার আগে নিজের মধ্যে হেদায়াত ও ইসলাহ (সংশোধনের) স্বপ্ন আগে দেখেন। আর আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়ার আহবান হচ্ছে এটা।
এই দেশে তাহজিব তামাদ্দুন, কৃষ্টি কালচার পরিবর্তন যদি হয় তাহলে আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে কারা? এর দায় আলেম উলামাদের ওপর বর্তাবে। কুরআনের আয়াত বদলানো কারো দ্বারা সম্ভব নয়, কিন্তু কুরআনে ভাবার্থ, অপব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। সুদকে হালাল বানিয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা করছে। মসজিদের মেম্বর থেকে মিথ্যা বলার প্রচলন শুরু হয়ে গেছে। তাফসিরের নামে মিথ্যা বয়ান করা হচ্ছে। মাদরাসার ছাত্রদের মাথা থেকে টুপি খুলে নেয়া হচ্ছে। একটি চুক্তিকে বাস্তবায়ন করতে শুকরের গোস্তকে হালালের কাছাকাছি নেয়ার চেষ্টা করতেছে।
আমি তাদেরকে কটাক্ষ করছি না। আমি তাদের প্রতি আহবান করছি, যেটুকু ঈমান নিয়ে আছেন সেটুকু আসল ঈমান নয়, যদি ঈমান নিয়ে বাঁচতে চাও তাহলে তওবা করে আবার ইসলামের দিকে ফিরে আসো। আজকে আল্লামা ফুলতলী (র.) সহ আওলিয়ায়ে কেরামগণ যদি এদেশে ইসলামের খেদমত না করতেন তাহলে তারা কবর জিয়ারতকে কবর পূজা বলতো। এই দেশ আওলিয়ায়ে কেরামদের আবাদকৃত দেশ। এখানে বাতিলের কোনো স্থান নেই।
আনজুমানে আল ইসলাহ ওসমানীনগর উপজেলা সভাপতি মাওলানা এম এ রবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন গজনভীর উপস্থাপনায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রিন্সিপাল একে এম মনোউর আলি, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, মাওলানা বেলাল আহমদ, সিলেট জেলা আল ইসলাহর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ নোমান,
উপস্থিত ছিলেন, তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট জেলা সভাপতি ফয়সল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুব খান, ওসমানীনগর উপজেলা তালামীযের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জুমান আহমদ. কাজী মাওলানা আ ফ ম আব্দুল কাইয়ুম।






