জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীদের। একই সঙ্গে দলটির তৃণমূল নেতাদেরও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে তাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপি ও এর তিন সহযোগী সংগঠন– যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন করে নেতাকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বেলা পৌনে ১১টায় সভাস্থলে প্রবেশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার শুরুতে তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের মতবিনিময় সভা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সেই আলোকে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী জানান, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের (জনগণ) চাওয়া-পাওয়া নিয়েও সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি এলাকার দলীয় সংসদ সদস্যকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক নানা প্রচারণার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি থানা-উপজেলা, এমনকি উন্নয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নেতাকর্মীরা জানান, মতবিনিময় সভাটি জাতীয় সংসদের আদলে হয়েছে। এটাকেও তারা মিনি সংসদ বলে মনে করছেন। সেখানে মন্ত্রীরা তাদের কাজের বিবরণ ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আর সারাদেশ থেকে আসা নেতারা তাদের কাছ থেকে অনেক বিষয় জানতে চেয়েছেন। এটা দল ও কর্মীদের কাছে এক ধরনের কৈফিয়তের মতো।
সংসদ সদস্যদের মতো মন্ত্রীদেরও একই প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত এ রকম সভার মধ্য দিয়ে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, অনিয়ম যেমন সামনে আনা হবে, তেমনি সরকারের নেওয়া উদ্যোগকেও দল ও নেতাকর্মীর সামনে তুলে ধরা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচন হতে পারে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই চ্যালেঞ্জ নিতে হলে সবার আগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, হিংসা দূর করতে হবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে এই নির্বাচনে ভালো করা সম্ভব হবে না।
নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউকে জিতিয়ে আনা হবে না। কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে নির্বাচিত হতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। এ জন্য চলতি বছরের মধ্যে মূল দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করতে চায় বিএনপি।
নিয়ম মানলে ঠিকাদারি কাজ পাবেন
বৈঠক সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী, এমনকি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দলের নেতাকর্মীর মধ্যে যে অনিশ্চয়তা কিংবা হতাশা কাজ করছিল, তা নিরসনে নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সভাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপস্থিত নেতাকর্মী জানান, সরকার গঠনের আগে থেকে দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড জোরালো করা হয়। যার কারণে তারা সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেননি। এমনকি বিগত দিনের সরকারের মতো কোনো টেন্ডার বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এতে গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ নেতাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিয়ম মেনে যে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে।
এই সুবিধার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আশ্বস্ত করা হয়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যে জটিলতা রয়েছে তা নিরসন করা হবে। যাতে প্রতিটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা হবে। তবে সেখানে কোনো প্রকার লুটপাট, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও কড়া বার্তা রয়েছে দলের শীর্ষ নেতাদের।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগের সরকার যেভাবে লুটপাট করেছে, কাজ না করে টাকা পাচার করেছে, এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের এক নেতা (সাবেক সংসদ সদস্য মহারাজ) কোনো কাজ না করেই ৬৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ আছে। এ রকম কোনো কাজ করা যাবে না।
মন্ত্রীদের উদ্দেশে একজন নেতা বলেন, বিগত ১৭ বছর তারা কোনো সরকারি কাজ পাননি। তাদের ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকলেও কোনো কাজে আসেনি। সরকারের খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই খাল খননে তাদের যে লাইসেন্স রয়েছে, তাতে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। টেন্ডারের শর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ওই কাজ করতে পারবে না। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে কীভাবে সম্পৃক্ত করবেন। এর জবাবে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল আছেন। তারা এটা সবার জন্য সহজ করবেন।
সরকারের ৮০ দিনের কার্যক্রম
বিএনপির নেতারা জানান, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র আগামী দিনে সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে সারাদেশে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সরকারের আড়াই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুতের রিজার্ভ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। এক কথায় মন্ত্রীরা নিজেদের কাজের জবাবদিহি করেন দলের নেতাদের কাছে। এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে নেতারা যার যার এলাকার সমস্যার কথা তুলেন ধরেন। কী করলে এলাকায় উন্নয়ন হবে। কী কী করলে জনগণ, এলাকা এবং দলের জন্য খারাপ, সেটাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন নেতারা।
জানা গেছে, সভায় মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং কাজের বিষয়ে নেতাদের অবহিত করেন। মন্ত্রীদের জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক এবং ছাত্রদলের ছয়জন করে নেতা প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে নেতারা নিজ এলাকার অবস্থা তুলে ধরে তা উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নেতারা বর্তমান শিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তা পরিবর্তন করে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
দিনভর চলা এই আলোচনায় উঠে এসেছে সরকারের ৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও আগামী দিনের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা। একই সঙ্গে সভায় তৃণমূলের মতামত গ্রহণ করেছেন হাইকমান্ড।
খুব শিগগিরই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে ওদিকে সরকারের আড়াই মাসের অগ্রগতির বিষয়েও সভায় সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই প্রথম মতবিনিময় সভা করেন তারেক রহমান। বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সারাদেশের জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতা অংশ নেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীদের কাছে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেন। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা অংশ নেন। ৯ শতাধিক নেতা এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভার সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রত্যেক মন্ত্রী বক্তৃতায় ৮০ দিনে তাদের কার্যকলাপ তুলে ধরেন। আগামী দিনে সরকার কীভাবে কাজ করবে তাও তুলে ধরেন তারা। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর পরিবর্তে গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার বক্তব্য তুলে ধরেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
সভায় অংশ নেওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, এখানে সরকারের ১০ জন মন্ত্রী তাদের ৮০ দিনের কার্যকলাপ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের দ্বিধা আছে। যেমন গণভোট, জুলাই সনদ, হামে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে, তা জানতে চান। এই বিষয়গুলো সভায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রীরা।
গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলা হয়, জুলাই সনদে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে তার প্রতিটি পদক্ষেপ আক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এর মধ্যে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষে সংসদের আসন অনুপাতে প্রতিনিধি চায়, উচ্চকক্ষে সংবিধান সংশোধনসহ কয়েকটি বিল পাঠানো হবে না।
বিগত সময়ের মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যেগুলো ট্রায়ালে চলে গেছে, ওগুলো আদালতে সমাধান হবে।
সভায় হামের বিষয়টি তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেন এবং বিগত সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়ছে সেটিরও ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে এটি কীভাবে পুনরুদ্ধার করছেন এগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারে যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আজকে প্রথম বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এখানে মূলত সরকার তিন মাসে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে; যাতে নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের সামনে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। নেতাকর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে সরকার, কী কী পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে।
নাছির বলেন, ‘সভায় মন্ত্রীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তেমনি জেলার নেতারা তাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। কেন কী কারণে কাজগুলো হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেমন সরকারের জবাবদিহি বাড়বে এবং একই সঙ্গে সরকারের যেসব ভুলত্রুটি হচ্ছে সেগুলো আর ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
সভাস্থলের বাইরে রাস্তায় সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যুবদল, ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী অনেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করেছে। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
সভায় উপস্থিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন বলেন, আজকের মতবিনিময় সভা মুলতবি করা হয়েছে। তিন-চার মাস পরপর এ ধরনের সভা হবে। সেখানে সরকার কী ধরনের কার্যক্রম করছে; মন্ত্রীদের পদক্ষেপ; দেশের উন্নয়নে কী করবেন; সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরা হবে। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়েও বলা হয়েছে।
যুদ্ধ একটি শেষ, আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
মতবিনিময় সভা শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নেতাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ একটি শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কী সেই যুদ্ধ? যুদ্ধটি হচ্ছে, আমরা মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই ইশতেহার ছিল বিএনপির ইশতেহার। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে এবং ফলাফল প্রকাশের পরে সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। কারণ ৫২ শতাংশ মানুষ যারা ভোট দিয়েছেন, তারা এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই এই ইশতেহারে আমরা যা যা বলেছি, তা সর্বোচ্চ দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে, আমরা সুশাসন দেব। মানুষকে আমরা বলেছিলাম যে, আমরা একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যে দেশে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে। আমরা মানুষকে বলেছিলাম, আমরা একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু সকলে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে। আমরা মানুষকে নিয়ে যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম তখন আমরা বলেছিলাম যে, আমাদের ওপরে যেরকম অত্যাচার ও নির্যাতন হয়েছে, যেরকম গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।’






