নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় শামীম ওসমানের ভাতিজা পলাতক আজমেরী ওসমানের অনুসারীদের মিছিলের পরদিন একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্টে অভিযান তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা সবাই চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে চাষাঢ়ায় পলাতক আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করে। এ সময় লাল কাপড়ে মুখ ঢেকে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মিছিলের পরদিন শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী চাষাড়ার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক চলছে বলে স্ট্যাটাস দেন। এরপরই পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় কয়েকজনকে পুলিশ গাড়িতে তুলে থানার দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে অংশ নিতে আসা আরো অনেকে স্থান ত্যাগ করেন।
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ‘চাঁদপুরের একটি সংগঠনকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজনের আড়ালে নারায়ণগঞ্জের কিছু নেতাকর্মীও সেখানে জড়ো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আসে। পরে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুমার নামাজের পর থেকেই আমাদের লোকজন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নজরদারি চালায়। বিকেল ৩টার দিকে একটি রেস্তোরাঁয় তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল, সেখানে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার কথা ছিল।’
এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, ‘প্রথমে তাদের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেছে বুঝতে পেরে স্থান পরিবর্তন করা হয়। রাজনৈতিক সূত্র থেকেই আমরা তথ্য পাই, পরে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনকে জানানো হয়।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘একটি তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করেছি। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও উদ্দেশ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





