রাজশাহীতে গৃহবধূ রিতু খাতুন রিয়াকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে স্বামী স্থানীয় জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান মিজানসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই রিতু খাতুন রিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী মিজান। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মিজান পলাতক থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা “খুনির ফাঁসি চাই”, “রিতু হত্যার বিচার চাই” এবং “পলাতক মিজানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করো”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, “একজন নারীকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রশাসনের ব্যর্থতা।” তারা দ্রুত মিজানসহ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড (পূর্ব) জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
তাদের দাবি, রিতু খাতুন রিয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
নিহত রিয়া নগরের ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা ও জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান মিজানের স্ত্রী। গত ১৩ মে সকালে রিয়ার স্বজনেরা খবর পান, শ্বশুরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, রিয়াকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় রিয়ার মা শিলা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।





