প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের জন্য গৌরবের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্র সুসংহত করার দায়িত্বও সবার। এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অ্যালামনাইদেরও গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও সক্রিয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও দক্ষ হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতন হওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু চাকরির সন্ধান না করে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।






