ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের “বিচার বিচার চাই সাজিদ হত্যার বিচার চাই; সাজিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না; তুমি কে আমি কে সাজিদ সাজিদ; সাজিদ আব্দুল্লাহ কবরে খুনি কেন বাহিরে; প্রশাসনের টালবাহানা চলবে না, চলবে না; খুনি ধর জেলে ভর; সাজিদ হত্যার তদন্ত, আর নয় বিলম্ব” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, গত বছর ১৭ জুলাই সাজিদ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো রহস্য উন্মোচন করতে দেখিনি। এই হত্যাকাণ্ডের পরে খুনিদের ধরতে এবং তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় একজন ম্যামকেও বলি হতে হয়েছে। ম্যামের খুনিকে গ্রেপ্তার করা হলেও আমরা বিচারের মধ্যে এখনও ধীরগতি দেখতে পাচ্ছি। অতি দ্রুত বিচার করে খুনিদেরকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে দিতে হবে।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেখেছি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে, প্রশাসন এখনও আঙুল চুষছে। কিসের ভয়ে এটা করছে আমরা জানি না। তবে আপনারা যদি জুলুমতন্ত্রকে সায় দেন এবং স্বৈরাচার হয়ে ওঠেন, তাহলে খুনি হাসিনা থেকে শিক্ষা নেবেন। খুনি হাসিনাকে যেভাবে ভারত পালাতে বাধ্য করা হয়েছে, আপনাদেরকেও ভারত পালাতে বাধ্য করা হবে যদি আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন।
দাবিদাওয়া জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সহ অন্যান্য সংগঠন মিলে সাজিদ আব্দুল্লাহ’র নামে হল বা স্থাপনা নির্মাণের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন নাই। এছাড়া সাজিদের বাবাকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। এ দেশের মাটিতে ইনসাফ কায়েম করতে, অন্যায় এবং জুলুমতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে আমরা এসেছি।
উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন সাজিদ আবদুল্লাহ। গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে শাহ ক্যাম্পাসে আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ফরেনসিক রিপোর্টে সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে জানান। বর্তমানে এই মামলাটি সিআইডি’র নিকট তদন্তাধীন।






