ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ার পরই সাতক্ষীরার বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টানা কয়েকদিনের মূল্যবৃদ্ধির পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশি কাঁচামরিচের খুচরা দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের বাজার আরও স্বাভাবিক হতে পারে। তবে স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত আমদানির কারণে দেশীয় উৎপাদকরা লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। যদিও কয়েকটি খুচরা দোকানে এখনও আগের তুলনায় বেশি দামে মরিচ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ সংকট, মৌসুমি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ সীমিত থাকায় দেশি কাঁচামরিচের দাম দ্রুত বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছে যায়। সোমবারও একই দামে মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে ভারতীয় মরিচ বাজারে প্রবেশের পর সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় দাম দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে।
সুলতানপুর বাজারের একাধিক পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ভারতীয় মরিচ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ায় দেশি মরিচের বিক্রেতারাও দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন। তারা বলছেন, আগামী কয়েকদিন ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম আরও কমতে পারে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, গত কয়েকদিন কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমান দাম কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা এখনও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে পুরোপুরি আসেনি।
ভোমরা স্থলবন্দর সূত্র জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) সারাদিনে ১০টি ট্রাকে মোট ৯১ মেট্রিক টন ভারতীয় কাঁচামরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
আমদানিকারকদের দাবি, মঙ্গলবার আরও ২৫ থেকে ৩৫টি ট্রাকে কাঁচামরিচ আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শুধু সাতক্ষীরা নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বার্তা বাজার/আইকে






