সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তঘেঁষা চেলা নদীতে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে যেন মহোৎসব চলছে।
জানা গেছে, প্রশাসনের অভিযানের পরেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বালু লুটেরাদের।
সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার বালু লুটের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে ৯ জনকে। নৌ-পুলিশের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন–সাদেক মিয়া, হোসেন মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, সুমন মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, ফরিদ উদ্দিন, রাজ্জাক মিয়া, তারেকুল ইসলাম তারেক ও সেলিম মিয়া।
তারা সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ওই অভিযানের সময় ৪২ লাখ টাকা মূল্যমানের ২১টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার কাজিরগাঁও-সংলগ্ন চৈলতার ঢালা এবং দোয়ারাবাজারের সোনাপুর গ্রামের কলাবাগান এলাকায় চেলা নদী থেকে রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে তীরবর্তী কাজিরগাঁও, রহমতপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়ে। ড্রেজার বাণিজ্যের প্রতিবাদে স্থানীয়রা একাধিকবার মিছিল ও মানববন্ধন করলেও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অবশেষে সোমবার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর নতুন বাজারে বিক্ষুব্ধ জনতা ও নৌ-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সরঞ্জামসহ ৯ জনকে হাতেনাতে আটক করে।
এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক কাজল মিয়া বাদী হয়ে ঘটনাস্থল আটক ৯ জনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা দায়ের করেন।
নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।






