ঢাকা   বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলত’

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

‘জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলত’

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি দাবি করেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে র‌্যাবের অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। পরে মরদেহ গুম করতে সেগুলোর সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়া হতো।

আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি এমনটি উল্লেখ করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে আব্বাস মল্লিক এসব বক্তব্য দেন। সাক্ষ্যে তিনি তৎকালীন র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বন্দিদের হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গুম এবং হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগও তুলে ধরেন।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় র‌্যাবের অভিযান পরিচালিত হওয়ার দিন বিকেলেই সাদা পোশাকে দুইজন র‌্যাব সদস্য সেখানে যেতেন। তারা স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখার পাশাপাশি দোকানের বাতি নিভিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‌্যাবের চার থেকে পাঁচটি মাইক্রোবাস এসে স্থানীয় একটি বরফ মিলের সামনে থামত।

সাক্ষী জানান, ওইসব গাড়ি থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নামিয়ে ট্রলারে তোলা হতো। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা এসব বন্দিদের সঙ্গে র‌্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তাও নিয়ে আসতেন। পরে বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদীর দিকে রওনা হতো।

আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ট্রলারটি নদীর গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর গতি কমিয়ে দেয়া হতো। এরপর চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের একজন একজন করে ট্রলারের ভেতর থেকে বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্টের অংশে দুইজন র‌্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন। এ সময় জিয়াউল আহসান নিজে এসে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাক্ষীর বর্ণনা অনুযায়ী, গুলিতে বন্দি মারা যাওয়ার পর তার গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হতো। মরদেহ যাতে পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে দেয়া হতো বলেও ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন আব্বাস মল্লিক।

তবে সব বন্দিকে নদীতে ফেলা হতো না বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, অন্য কিছু বন্দিকে সুন্দরবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হতো। পরে সাংবাদিকদের ডেকে এনে থানায় মরদেহ হস্তান্তর করা হতো বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।

আব্বাস মল্লিক আরও বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের পর ট্রলার নিয়ে আবার বরফ মিলে ফিরে আসা হতো। এরপর মাঝিদের খামে করে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেয়া হতো বলে তার সাক্ষ্যে উঠে আসে।

সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করেন আব্বাস মল্লিক।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন