কিছুদিন আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনসকে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই হারে বাংলাদেশের মূল পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সিদ্ধান্তটি এসেছিল ৪ সেপ্টেম্বর। সেই ঘটনার ৪ দিন পর মুখ খুলেছেন জোনস।
আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছেন তিনি।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকায় ফিরে এসে এবং কানসাস সিটির পথে থাকতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার, কিছুটা সময় নিজেকে গুছিয়ে নেয়া ও গত কয়েক মাস নিয়ে ভাবার সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এরপর সামনে কী আছে, সেদিকে তাকানোর পালা। গত কয়েক মাস নিঃসন্দেহে অনেক কিছু শেখার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায় মূলত ফলাফলনির্ভর একটি জগত। আমি পুরোপুরি বুঝি, পারফরম্যান্স ও ফলাফল থেকেই মতামত, সমালোচনা এবং নানা ধরনের আলোচনা আসে। আপনি যখন এমন একটি দায়িত্ব ও প্রত্যাশার ভূমিকায় থাকবেন, তখন এগুলো কাজেরই অংশ। তবে একই সঙ্গে আমি মনে করি, এখানে প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতাটাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।’
পশ্চিমা দেশগুলোতে নিজের কমফোর্ট জোনে থেকে যাওয়া অনেক সহজ হতো বলে উল্লেখ করে জোনস জানান, ‘আমি গর্বিত যে আমি এই সুযোগটি (বাংলাদেশের কোচ হওয়া) নিয়েছিলাম এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম।’ তার ভাষ্য, ‘আমি এমন একটি দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেটি সাংস্কৃতিকভাবে আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, যার নিজস্ব নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং যার সংস্কৃতি আমার পরিচিত পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি সহজ ছিল না।’
নিজের দর্শন নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমার মানসিকতা সবসময় খুব সহজ ছিল: সুযোগ গ্রহণ করো। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করো। শেখো। উন্নতি করো। আবার শুরু করো। ব্যর্থ হলে আবার ব্যর্থ হও। সেখান থেকে শেখো। কখনো শেখা বন্ধ করো না।’
এরপরই নিজের ওপর হওয়া হুমকি নিয়ে জোনস বলেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ও পারফরম্যান্সের সমালোচনা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কুৎসিত ও অপমানজনক বার্তা পেয়েছি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, এমনকি মৃত্যুর হুমকিও পেয়েছি। আর কিসের জন্য? প্রতিটি কোচ ও খেলোয়াড়ের পেছনে একজন মানুষ আছে। আমি একজন স্বামী। একজন বাবা। একজন ছেলে। প্রত্যেকেরই মতামত দেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু সেই মতামত হুমকি বা অপমান ছাড়াও সম্মানের সঙ্গে প্রকাশ করা যায়।’
স্ট্যাটাসের শেষে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি আমেরিকায় ফিরে এসে ভীষণ আনন্দিত। আমি যে অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করেছি, সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ এবং সামনে যা আসছে তা নিয়ে আমি উচ্ছ্বসিত ও নিজেকে আশীর্বাদপুষ্ট মনে করছি।’






