মাহে রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ রেখে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। ‘বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
সোমবার (২ মার্চ) হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী রবিবার (৮ মার্চ) হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার করানোর নোটিশ ইস্যু করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রনেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৮ মার্চ (১৮ রমজান) হলসমূহের আবাসিক ছাত্রদের এ ইফতার দেওয়া হবে। ইফতার সংগ্রহের জন্য অফিস চালাকালীন সময়ে হল অফিস হতে আগামী ৩-৪ মার্চের মধ্যে হল আইডি কার্ড দেখিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়। উল্লেখিত সময়ের পর আর কোন টোকেন দেয়া হবে না।
ক্ষোভ জানিয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, পবিত্র রমজানে ইফতার করানো যেখানে সওয়াব ও মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচিত, সেখানে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আয়োজন করা স্পষ্ট বৈষম্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিচায়ক। নিয়মিত হল ফি প্রদান করেও তারা ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ধরনের অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে সমতা, ন্যায় ও সহমর্মিতাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আয়োজনটি শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, তারাও হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেন এবং রমজান মাসে পড়াশোনার স্বার্থেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থাকেন। তাই তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে অতি দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে শাখা খেলাফতে ছাত্র মজলিসের সভাপতি জোনায়েদ খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করছি। হলের সিট ব্যতীত ভার্সিটির সকল সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি। আবাসিকের শর্ত দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে চায়, আপনারা তাদের সিটের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন কি? তাদেরকে সকলকে আপনারা আবাসিক রাখার ক্যাপাসিটি রাখেন? তাহলে কেন আবাসিকের শর্ত দেন? রাবিসহ অন্য ভার্সিটিগুলো উন্মুক্ত ইফতারির আয়োজন করতে পেরেছে, আপনারা কেন পারেন না? না পারলে আবাসিক-অনাবাসিকের শর্ত উল্লেখ করে বিভাজনমূলক ইফতার আয়োজন বাদ দিন। অন্যথায় আবাসিক-অনাবাসিক সবার জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
ইবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নূর আলম সিদ্দিক তার ফেসবুক পোস্টে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, আপনাদের এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। আপনারা শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে পারেননি এটা আপনাদের ব্যর্থতা। তাই বলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবেন এটা হতে পারে না। আমরা চাই আপনারা অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন নাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
ইফতারের আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি ও খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না বরং হল কেন্দ্রিক। তাই হলের প্রভোস্টদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয় তখনই আসে যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা করবেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






