প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার অভাব এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান।
রবিবার (৯ আগস্ট) জাকসু সভাপতির কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জিসান।
পদত্যাগপত্রে শেখ জিসান উল্লেখ করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা প্যানেলের অংশ না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তার সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেন জিসান।
পদত্যাগপত্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সেখানে উপস্থাপক নির্বাচন ও অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং প্রশাসন ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তিনি গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এমনকি ঘটনার পর তাকে দুঃখ প্রকাশের জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জিসান বলেন, একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থের প্রভাবে কাজ করতে পারেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নীতি, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে আপস করে পদে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি তার পদত্যাগ গ্রহণ করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাকসু সভাপতির প্রতি অনুরোধ জানান।
এর আগে ফেসবুক পোস্টে জিসান অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক হলেও তাকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বার্তা বাজার/ আইকে






