বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ-এর হাত থেকে ম্যানেজিং কমিটির কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা। এ সিদ্ধান্তকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়া শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের।
তিনি শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ দেখে ফেসবুকে এসে সেটিকে গুজব বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ছাত্রনেতা শিক্ষামন্ত্রীকে ‘জনগণকে আশরাফুল ভাবা বন্ধ’ করারও আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আয়োজিত এক ছাত্র জমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। জমায়েত শেষে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ডাকসুর সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এ বি জুবায়ের বলেন, “গতকাল আমরা যখন এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালাম, তখন শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করেছে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে এসে বলেছেন, এটি গুজব, আমাদের নাকি কান চিলে নিয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রী, জনগণকে আশরাফুল ভাবা বন্ধ করেন।”
গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত একটি সভার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সম্মতিতেই এনটিআরসিএ-এর নিয়োগসংক্রান্ত ক্ষমতা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার উপস্থিতিতে এবং আপনার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে এনটিআরসিএ শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে, নিয়োগের সুপারিশ করবে না। আর ম্যানেজিং কমিটি অথবা গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আপনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আপনি একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যখন দেখলেন ছাত্র-জনতা প্রতিবাদ করছে, তখন ফেসবুকে এসে সেটিকে গুজব বলবেন, কান চিলে নিয়ে গেছে বলবেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান ডাকসুর এই নেতা।
শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
এ বি জুবায়ের বলেন, “ফলশ্রুতিতে মেধা এবং স্বচ্ছতার পরিবর্তে নিয়োগ হবে টাকা লেনদেনের বিনিময়ে। নিয়োগ হবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিবেচনায়। নিয়োগ হবে মামু-খালুর জোর কার কত আছে, সেই বিবেচনায়।”
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্ররা যেখানে মেধার সামনে একটি কোটার দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল (ভেঙে দিয়েছিল), আপনারা আবার দুই বছরের মাথায় শিক্ষার্থীদের মেধার সামনে কমিটি নামক দুর্নীতির দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সিদ্ধান্তটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমরা আন্দোলন করতে চাই না, বক্তব্য দিতে চাই না, চিল্লাপাল্লা করতে চাই না। আমরা স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স চাই।”
এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে আগের মতো মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে– শিক্ষামন্ত্রীকে এমন স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জুবায়ের বলেন, ‘কোনো ধরনের ভুংচং, ভাজুং-ভাজুং ভাবাই চলবে না। একটা মিথ্যা ঢাকার জন্য একশটা মিথ্যার অবতারণা আমরা চাই না।” শিক্ষামন্ত্রীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আশপাশের চাটুকার সম্প্রদায়ের পরামর্শে বা উসকানিতে এমন কোনো ভুল করবেন না, যে ভুল করলে মৌমাছির চাকে ঢিল ছোড়ার যে পরিণতি, সেই পরিণতি বরণ করতে হবে।’
অবিলম্বে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন এই ডাকসু নেতা।
বার্তা বাজার/ আইকে






