ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘বাবার কবর থেকে ফেরার পথে ধর্ষণ’: মেয়ের আত্মহত্যার কথা ট্রাইব্যুনালে জানালেন জুলাই শহীদের স্ত্রী

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

‘বাবার কবর থেকে ফেরার পথে ধর্ষণ’: মেয়ের আত্মহত্যার কথা ট্রাইব্যুনালে জানালেন জুলাই শহীদের স্ত্রী

‘স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বক্তব্য দিতে আমি ঢাকায় আসি। এর পরপরই পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বাবার কবর থেকে ফেরার পথে আমার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। গুরুতর মানসিক আঘাতের পর আমার মেয়ে আত্মহত্যা করে।’

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রী। ঢাকার মোহাম্মদপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নয়জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যে ওই নারী বলেন, স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বক্তব্য দিতে ভাই ও দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে গত বছরের ১৭ মার্চ ঢাকায় আসেন তিনি। তখন এইচএসসি পরীক্ষার্থী তার বড় মেয়ে পটুয়াখালীতে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন।

তিনি বলেন, পরদিন তার মেয়ে বাবার কবর জিয়ারত করতে যান। কবর থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বলেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় এসেছিলাম, আর এ কারণে তারা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।’

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তার মেয়ে গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হন। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন।

স্বামীর মৃত্যুর ঘটনাও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন ওই নারী। তিনি জানান, তার স্বামী একটি এনজিওতে চালক হিসেবে কাজ করতেন। আগের দিন সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তিনি ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে জানানো হয়, তার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সাক্ষী বলেন, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে একটি ট্রলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে দেখতে পান তিনি। তখন স্বামী তাকে জানান, তার দুটি আঙুল উড়ে গেছে এবং বুকে গুলি লেগেছে। ওই দিনই তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরে তাকে ঢাকার বনানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুলাই তিনি মারা যান।

সাক্ষী আরও বলেন, স্বামীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার অনুমতি পেতে তাকে বারবার বনানী ও মোহাম্মদপুর থানায় যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ জুলাই তিনি মরদেহ বুঝে পান। পরদিন সকালে স্বামীকে দাফন করা হয়। সাক্ষ্যের শেষ দিকে তিনি স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন