ঢাকা   রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ফিলিস্তিনপন্থি ওকাসিও-কর্টেজ!

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ফিলিস্তিনপন্থি ওকাসিও-কর্টেজ!

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এখনই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। সেই আলোচনার কেন্দ্রে ক্রমেই উঠে আসছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এই প্রগতিশীল নেত্রী প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তা ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন দখল করা নয়; বরং ‘দেশকে পরিবর্তন করা’। তার এ বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতাদের ব্যাপক করতালির জন্ম দেয়। এরপর থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ওকাসিও-কর্টেজের জন্য অনুকূল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের একটি অংশ পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে হতাশ। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনি সাফল্যও ওকাসিও-কর্টেজের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের মধ্যে ওকাসিও-কর্টেজ এগিয়ে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর মতো প্রগতিশীল সংগঠন থেকে শুরু করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাও।

ডিএসএর কো-চেয়ার আশিক সিদ্দিকি বলেন, ওকাসিও-কর্টেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়লে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তার মতে, ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে শ্রমজীবী মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠ থাকা প্রয়োজন।

জাতীয় পরিচিতি তৈরিতে দীর্ঘ প্রস্তুতি

ওকাসিও-কর্টেজ ২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন। তখন তিনি ছিলেন সাবেক বারটেন্ডার ও ওয়েট্রেস, নির্বাচনি প্রচারের জন্যও তার হাতে ছিল খুব সামান্য অর্থ।

তবে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর সহায়তায় তিনি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন। তার প্রথম নির্বাচনি চক্রেই প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকেও সাক্ষাতের অনুরোধ আসতে শুরু করে।

ওকাসিও-কর্টেজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক ও জাস্টিস ডেমোক্র্যাটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা করবিন ট্রেন্টের ভাষ্য, ২০১৮ সালে ক্রাউলিকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহল তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করে। কিন্তু তিনি নিজে কখনো প্রেসিডেন্ট, গভর্নর বা সিনেটর হওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করেননি।

ট্রেন্টের মতে, ওকাসিও-কর্টেজের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বাভাবিকতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে তিনি নিজের ভাষায় তুলে ধরতে পারেন বলেই তার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্রিস স্কটও মনে করেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে বারটেন্ডার হিসেবে কাজ করার অতীত—অনেক ভোটারের সঙ্গে তাকে সহজে সংযুক্ত করে। ক্রমেই মেরুকৃত মার্কিন রাজনীতিতে ভোটাররা এমন প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছেন, যাদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পান।

প্রগতিশীলদের সমর্থন, আবার সমালোচনাও

গাজা ইস্যুতেও তার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে কমলা হ্যারিসের গাজা নীতির প্রশংসা করায় বামপন্থী কর্মীদের একাংশ তার সমালোচনা করে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ২০২০ সালের মহামারি-পরবর্তী সময়ের সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব ও ‘পুলিশের অর্থায়ন বন্ধ’ করার মতো কিছু বামপন্থী দাবির প্রসঙ্গে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, সেই সময়ের ‘ওয়োক’ রাজনীতি ছিল অতিরিক্ত উগ্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা মধ্যপন্থী করার কৌশলও হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি যে কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে, তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই। ওকাসিও-কর্টেজ প্রার্থী হলে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় থাকতে পারেন কমলা হ্যারিস, পিট বুটিগিগ, গ্যাভিন নিউজম, জন অসফ এবং প্রগতিশীল কংগ্রেসম্যান রো খান্নার মতো নেতারা।

২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে ওকাসিও-কর্টেজ মার্কিন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন—এমনকি থিওডোর রুজভেল্ট ও জন এফ কেনেডির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারেন।

তবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন অংশের সমর্থন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বার্নি স্যান্ডার্সের ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারের জাতীয় কো-চেয়ার নিনা টার্নার বলেন, ডিএসএ ও প্রগতিশীলরা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের কাছে যথেষ্ট কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, ২০২৮ সালে ওকাসিও-কর্টেজকে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও সংগ্রামকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

দক্ষিণ ক্যারোলিনার ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ অ্যান্টুয়ান সিওরাইটের মতে, ওকাসিও-কর্টেজকে এমন ইস্যুতে মনোযোগ দিতে হবে যা সাধারণ আমেরিকান পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে পারলে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।

রিপাবলিকানদের আক্রমণও হবে বড় বাধা

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলে রিপাবলিকান ও ডানপন্থী গণমাধ্যমের তীব্র আক্রমণের মুখেও পড়তে পারেন ওকাসিও-কর্টেজ। বহু বছর ধরে তাকে উগ্র বামপন্থী বা ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিত্রিত করে আসছে ডানপন্থী মহল।

সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল যোগাযোগ পরিচালক তারা সেটমেয়ার মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওকাসিও-কর্টেজের কিছু মন্তব্য তার অবস্থানকে মধ্যপন্থী দেখানোর কৌশল হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের যুগে তার পুরোনো বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান সহজে হারিয়ে যাবে না।

সেটমেয়ারের পরামর্শ, সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না গিয়ে ওকাসিও-কর্টেজের বরং নিউইয়র্কের সিনেট আসনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার মতে, সিনেটর হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

তবে ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণও রয়েছে, যেখানে নেতারা ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় থেকে সুযোগ হারিয়েছেন। আবার বারাক ওবামার মতো নেতারা সঠিক মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন