জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের একটি ডেটাবেইজ তৈরি ও ‘জাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
জাতীয় সংসদে শনিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জাকাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি ‘হিডেন ইকোনমি’। কিন্তু দেশে কত টাকা জাকাত দেওয়া হয়, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই।
পার্থ বলেন, প্রতিটি নির্বাচনি আসনে কারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য, তাদের নামের একটি ডেটাবেইজ থাকা উচিত। এতে দেশে-বিদেশে থাকা দাতারা সহজে প্রকৃত ব্যক্তির কাছে জাকাত পৌঁছে দিতে পারবেন।
প্রতি আসনে ২০ হাজার জন করে ধরলে ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ভোলা-১ (সদর) আসনের এ এমপি।
জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই জাকাত দিতে চান, কিন্তু উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর সহজ ব্যবস্থা না থাকায় পারেন না।
ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি জাকাত ব্যবস্থা জনপ্রিয় করতে ‘জাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
বাজেটের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক দিকের প্রশংসা করে পার্থ বলেন, এটি একটি স্বৈরাচার ও জনগণের সরকারের মধ্যে পার্থক্য।
বাজেটে এতিম, নারী, বিপন্ন মানুষ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড মানুষের জন্য চিন্তা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে একদিনে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও সরকারকে ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইসলামী অর্থায়নকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশেও এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
কিছু ইসলামী ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নয়, বরং যারা ব্যাংক লুট করেছে তাদের মধ্যে। ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং আল্লাহর রহমত বয়ে আনবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে পার্থ বলেন, আগের সরকারগুলোর সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির কারণে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। তখন জাতীয় উন্নয়নের পরিবর্তে পরিকল্পিত লুটপাটই ছিল মূল লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের সময়ে বড় ধরনের কোনো ব্যাংক লুট বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। তাই সরকারকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত।






