নির্বাচনের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতর কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর কোনো কোনো কেন্দ্রের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় রয়েছে। কোনটি আবার একেবারেই সুনসান, নীরব।
কোনো কোনো কেন্দ্রে সাময়িক সময়ের জন্য ঢিলেঢালা ব্যবস্থাও দেখা গেছে। তবে প্রায় সবগুলো কেন্দ্রের আশপাশেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। বলা চলে, দূর থেকে নীরবে কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছেন তারা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুরের ৫টি কেন্দ্রে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা-১৫ আসনের এই কেন্দ্রগুলো হলো মিরপুর-১০ এর আদর্শ উচ্চ বিদল্যালয়, শেওড়াপাড়ার বিএএফ শাহীন হাজী আশ্রাফ আলী স্কুল, হাজী ইউসুফ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া শিক্ষালয় ও ইবরাহিমপুরের সালাহউদ্দিন শিক্ষালয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়ার বিএএফ শাহীন হাজী আশ্রাফ আলী স্কুলের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। নেতাকর্মী থাকলেও তারা নিজেদের দলীয় পরিচয় প্রকাশ করেননি। সেখানে কথা হলে পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা জামাল বলেন, বহু বছর পর ভোট উৎসব এসেছে। তাই এখানে এসেছি। দেখে ভালো লাগছে, মজা লাগছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাও ভালো। সাধারণ মানুষ এসে দেখে যাচ্ছেন। দুই দলের নেতারাও আসছেন। কারণ, বহু বছর পর ভোট হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল রহমান বলেন, কেন্দ্রের পরিবেশ খুবই ভালো। নিরাপত্তা ভালো। রিটার্নিং কর্মকর্তা যারা আছেন তারাও চলে এসেছেন। আজ কেন্দ্রে বাইরের কেউ অ্যালাউ নন।
রাত ৮টার দিকে মিরপুর-১০ এলাকার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির ফটক দু দিক দিয়েই খোলা রয়েছে। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের শিফট পরিবর্তন হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা জানান, পুলিশের বিভিন্ন গাড়ি কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্যে ফটক খোলা রাখা হয়েছে। আর সার্বিক নিরাপত্তা সন্তোষজনক হওয়ায় স্বল্প সময়ের জন্য ফটক খোলা থাকায় কোনো সমস্যা নেই। এই কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের তথ্যকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভিড়। রাতেও অনেকেই তাদের ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করছিলেন। এখানকার চিত্র ছিল উৎসবের মতো। কেন্দ্রটির পাশে বিএনপির স্থাপিত দুটি বুথ ও জামায়াতের একটি বুথে যেন ঈদের আমেজ!
একই এলাকার হাজী ইউসুফ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের একটি কেন্দ্রে গেলে সেখানে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। নারীকেন্দ্র হওয়ায় এই কেন্দ্রের আশপাশে তেমন বুথও নেই। কেন্দ্রটির মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হলে আনসার সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ভালো। ১০টার পর ভেতরের লোকও বাইরে যেতে পারবে না। বাইরের লোকও ভেতরে ঢুকতে পারবে না। প্রার্থী বা এলাকার কোনো লোক এখানে আসেননি।
বেগম রোকেয়া শিক্ষালয় নামের একটি কেন্দ্রের মূল ফটকে একজন আসনার ও পুলিশ সদস্যকে নিরপত্তায় নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে। সেখানে পরিচয় দিয়ে কথা হলে আসনার সদস্য এই প্রতিবেদককে কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসারে কাছে নিয়ে যান। কেন্দ্রটির ভেতর দেখা গেছে, নিরপত্তা রয়েছে যথেষ্ট ভালো। কথা হলে বেগম রোকেয়া শিক্ষালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ ইবনে ফয়সাল বলেন, কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা খুব ভালো। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। আমরা আমাদের কাজ এগিয়ে রাখছি।
ইবরাহিমপুরের সালাহউদ্দিন শিক্ষালয়ে দেখা গেছে, মূল ফটকে দায়িত্ব পালন করছে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। সেখানে কথা হলে আনসার সদস্যরা জানান, কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ভালো রয়েছে। এই কেন্দ্রের সামনে তেমন উৎসুক জনতা না থাকলেও স্থানীয় পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে।
এদিকে, ইব্রাহিমপুর এলাকায় রাত ৭ টার দিকে দেখা গেছে স্থানীয় এক বিএনপির নেতা দলবলে এই এলাকার পাকার মাথা নামক স্থান পার হচ্ছিলেন। স্লোগানবিহীন রাস্তা দিয়ে তাদের এই চলাচলও হয়ে উঠেছিল যেন অনেকটাই মিছিলের মতো। এই এলাকার মোড়ে মোড়ে জামায়াত নেতাদেরও সতর্ক অবস্থা দেখা গেছে। নির্বাচনি অফিস ও বুথগুলোতে সতর্ক অবস্থানে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উভয় দলের কর্মীরা জানান, দূর থেকে আমরা কেন্দ্র পাহারা দিচ্ছি। আমরা সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
ঢাকা-১৫ আসনটি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। কারণ, এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শুরুতে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস না পাওয়া গেলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা এক হওয়ায় আসনটিতে বর্তমানে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






