ঢাকা   রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন বলেন ৪০ মিনিট, আমি পাই ২ মিনিট! সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ, কঠিনভাবে ধুয়ে দিলেন হাসনাত

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন বলেন ৪০ মিনিট, আমি পাই ২ মিনিট! সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ, কঠিনভাবে ধুয়ে দিলেন হাসনাত

সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলতে দেওয়া হয় না এবং সরকারি দলের মন্ত্রীরা একচেটিয়া মাইক দখল করে রাখেন এমন গুরুতর অভিযোগ তুলে লাইভে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের বক্তব্যের দীর্ঘ সময় এবং বিরোধী দলের প্রতি স্পিকারের বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক লাইভ ভিডিওতে এসে বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, সংসদে ক্ষমতাসীন দলের (বিএনপি) আচরণ এবং ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন এই তরুণ রাজনীতিক।

লাইভে হাসনাত বলেন এখন আপনারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন যে ভাই সংসদে তো দেখি শুধুমাত্র আপনাদের আইনমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবই কথা বলেন। সংসদে দেখি আসাদুজ্জামান সাহেব আইনের এক্সাম্পল ব্যাখ্যা দেন ৪০-৪৫ মিনিট ধরে। সালাউদ্দিন সাহেব আমরা দেখি সেখানে ৫০ মিনিট ধরে কথা বলেন। আপনারা কেন কথা বলেন না?

এখানে যেই বিষয়টা হচ্ছে, আমাদেরকে এই সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমি একটা এক্সাম্পল দেই। যেমন আপনার সালাউদ্দিন সাহেব আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি যখনই দাঁড়ান, উনি যেহেতু ট্রেজারি বেঞ্চের উনি মেম্বার, ট্রেজারি বেঞ্চের উনি। অর্থাৎ উনি এবং উনি হচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উনি যখনই দাঁড়ান যেই বিষয়ে ধরেন যেমন মানবাধিকার কমিশন বিষয়ে আমাকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র কত, আমাকে সময় দেওয়া হয়েছিল দুই মিনিট। আমাকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র দুই মিনিট, মাত্র দুই মিনিট। আর এই বিষয়ে সালাউদ্দিন সাহেব ৪০ মিনিট কথা বলেছেন। ৪০ মিনিট।

আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়ের বিষয়ে আপনারা ৮ মিনিট কথা বলেছেন, আপনার আক্তার ভাই। আসাদুজ্জামান সাহেব কথা বলেছেন অলমোস্ট ৪০ মিনিট। তাহলে ঘটনাটা কী দাঁড়ায়? ঘটনাটা দাঁড়ায় ধরেন কোন একটা অর্ডিন্যান্সের পক্ষে আমি পাঁচ মিনিট কথা বললাম। পাঁচ মিনিট। এটার বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন সাহেব ৪০ মিনিট কথা বললেন, ৪০ মিনিট। এই ৪০ মিনিটে উনি যদি কোন অযৌক্তিক কথাও বলেন সেটাকে যখন আমি আবার দাঁড়াবো যে উনার অযৌক্তিক কথাগুলোকে খণ্ডন করার জন্য, আমাদেরকে সেখানে কোন অ্যালাউ করা হয় না।

তারমানে আপনি সময় পাচ্ছেন পাঁচ মিনিট আর সালাউদ্দিন সাহেব সময় পাচ্ছেন ৪০ মিনিট। আপনার কাছে উনার কথাটাই হচ্ছে কি, আপনি উনি উনার মতো করে মনের মাধুরী মিশিয়ে, মেটাফোর দিয়ে, উনি হচ্ছে ইতিহাস টেনে, উনি উনার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দর্শন সবগুলোকে উনি হচ্ছেন সংমিশ্রণ করে উনার মনের মাধুরী মিশে উনি কথা বলতে পারেন। এবং সেই জায়গা থেকে আমাদেরকে সময় দেওয়া হয় দুই মিনিট এবং রিকোয়েস্ট করে সময় নেওয়া হয় এক মিনিট এবং যখনই আবার সময় চাওয়া হয় তখন আমাদেরকে বলা হয় ইট দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, ইটস পার্লামেন্ট। হুইচ ইজ ভেরি আনফরচুনেট।
কারণ আপনি একই টপিকে একই টপিকে আপনার মানবাধিকার কমিশনের বিলের উপরে সালাউদ্দিন সাহেব কথা বলবেন ৪৫ মিনিট আর সেখানে আমাকে কথা বলতে দিচ্ছেন আপনি দুই মিনিট। আপনি আমাকে দুই মিনিট কথা বলতে দিচ্ছেন। মানে এটা এটা খুবই আনজাস্টিফাইড। যখন এটারই বিরোধিতা আমরা করেছিলাম, যখন এটাই চেয়েছিলাম যে এটার বিরোধিতা হচ্ছে, তখনই হচ্ছে আমাকে বলা হলো যে দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, ইটস পার্লামেন্ট।

এবং বিএনপি একধরনের জুয়াচুরি করেছে। জুয়াচুরি। মানে সিম্পল জুয়াচুরি করা। জুয়াচুরি কি? জুয়াচুরি হচ্ছে উনারা দিনের আলোতে প্রতারণা করেছে।

যেমন জুলাই জাদুঘর একটা অধ্যাদেশ ছিল। এই অধ্যাদেশটা কথা ছিল এটাকে অপরিবর্তিতভাবে সংসদে আইন আকারে পাস করা হবে। উনারা কি করলেন? উনারা একদম সংসদ শুরু হওয়ার সময় সংসদ একদম বিলটা পাস করার পাঁচ মিনিট আগে উনারা এটাকে সংশোধনী আকারে উপস্থাপন করে উনারা বিলটাকে পাস করায়ে নিলেন। যেটা কোন কমিটমেন্ট, এটাকে একটা কমিটমেন্ট ব্রিচ করা হয়েছে। এটা কথা ছিল না, কথা ছিল এটা অ্যাজ ইট ইজ পাস করাবে। এখন আপনারা আমাকে বলতে পারেন তাহলে আপনারা প্রতিবাদ করলেন না? আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করেছি এবং আপনারা যদি দেখে থাকেন তাদের যেহেতু মেজরিটি টু-থার্ড, তারা এখন কাউকে আর তোয়াক্কা করার প্রয়োজন মনে করে না। তাদের কথা হচ্ছে আপনারা পার্লামেন্টে থাকলে থাকবেন, না থাকলে নাই। আমার যে আইনটা আমি যেভাবে ইচ্ছা আমি করবো এবং যেভাবে ইচ্ছা আমি সেটাকে পাস করবো। এবং উনারা আরো কয়েকটা জায়গায় উনারা আমাদের সাথে প্রতারণা করছেন। করে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

যেমন কথা ছিল প্রত্যেকটা আইন পূর্ণাঙ্গ আইন অন্তত তিনদিন আগে সবার কাছে উনারা হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিলটা উনারা হাতে দিবেন। উনারা তিনদিন আগে হাতে দেন না। উনারা যেটা করেন, উনারা হচ্ছে বিলটা সংসদে উত্থাপনের ১৫ মিনিট আগে আপনাকে এতগুলা পেইজ আইনা ধরায়ে দিবে। ১৫ মিনিট আগে। এবং এই ১৫ মিনিট আগে আপনাকে এই পুরা বিলটার যদি আপনি একমত থাকেন বা দ্বিমত প্রকাশ করেন এই ১৫ মিনিটের মধ্যে আপনাকে জানাইতে হবে। এবং এটা এটা হচ্ছে এক ধরনের পুকুর চুরি করার মতো।

এবং আপনারা দেখবেন পুলিশ সংস্কার কমিশন, এটা কিন্তু সংসদে উত্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু উনারা এই কমিটমেন্টটা উনারা ব্রেক করেছেন। উনারা অনেকগুলা কমিটমেন্ট উনারা সিরিজ আকারে ব্রেক করেছেন। এক নাম্বারে ব্রেক করেছেন, উনারা বলেছিলেন ৯৮ টা অধ্যাদেশ উনারা অ্যাজ ইট ইজ পাস করবেন। এই অ্যাজ ইট ইজ ৯৮ টা কমিশন পাস করার কথা থাকলেও উনারা সেই জায়গায় উনারা হচ্ছেন আমাদের জাতির সাথে উনারা প্রতারণা করেছেন, উনারা কমিটমেন্ট ব্রেক করেছেন। দ্বিতীয়ত, উনারা বলেছিলেন খ ক্যাটাগরির ১৬ টা সংশোধনী আকারে বিলগুলো হচ্ছে সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেখানে হচ্ছে উনারা হচ্ছেন কমিটমেন্ট রাখেন নাই, উনারা সংশোধিত আকারে উত্থাপন করে নাই। অনেকগুলা বিল যে বিলগুলা মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন তারপর হচ্ছে আপনাদের হচ্ছে আপনার গুম অধ্যাদেশ, এই বিষয়গুলা বলেছিলেন উনারা এই সংসদে আলোচনার জন্য উনারা হচ্ছে নিয়ে আসবেন, সেখানেও সবগুলো বিল উনারা নিয়ে আসেন নাই।

এখন উনারা যেহেতু মেজরিটি, উনারা যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। যেমন উনারা এস আলমকে গতকাল দেখলেন মানে বাংলাদেশের জন্য আরেকটা কালো মানে একটা দিন। কালো দিনটা উনারা দেখেন এস আলম, আমি সংসদে প্রশ্ন করেছিলাম বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ টা ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়ার জন্য। তো আমি ফাইন্যান্স মিনিস্টার সাহেব, আপনার হচ্ছে ফাইন্যান্স মিনিস্টার উনি ২০ টা ঋণখেলাপির তালিকা আমাদেরকে দিয়েছেন, সংসদে সেটা আছেন। এই ২০ টার মধ্যে নয়টাই হচ্ছে এস আলমের প্রতিষ্ঠান। এই এস আলম ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮২ হাজার কোটি টাকা শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে উনারা হচ্ছে ঋণখেলাপি করেছে। ৮২ হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়ে গিয়েছে এস আলম।

আপনার ইন্টেরিম গভমেন্ট যখন আসলো, ইন্টেরিম গভমেন্টের আপনার হচ্ছেন যিনি গভর্নর ছিলেন, এই গভর্নর কী করলেন? এই ব্যাংকগুলাকে বাঁচানোর জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা রিফিল করলেন। যেন এই ব্যাংকগুলা জনগণকে এই টাকাটা দিতে পারে এবং ব্যাংকগুলাকে যেন বাঁচানো যায়। ৩৬ হাজার কোটি টাকা, থার্টি সিক্স থাউজেন্ড সিআর। এখন যেটা হইছে গতকাল একটা ব্যাংক অর্ডার পাস করায়ে নিলেন মেজরিটির বড়াই দিয়ে। এই ব্যাংক অর্ডারে কী আছে? অর্ডারে আছে, আপনার আগের যারা মালিক ছিল, যারা ব্যাংকগুলাকে চুরি নষ্ট করেছে, যারা ব্যাংকগুলাকে একদম মানে ধ্বংস করে দিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগের সময় এবং এই ব্যাংকগুলাকে চুরি করে টাকাগুলোকে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে, এই মালিকদের হাতে আর ব্যাংক তুলে দেওয়া যাবে না।

এই ইন্টেরিম গভমেন্ট একটা স্ট্রিক্ট আইন করেছিল, তাদেরকে কোনভাবে এই ব্যাংকে ফেরত আনা যাবে না। এই এই মালিকদেরকে আর ব্যাংক তুলে দেওয়া হবে না। কারণ ভাই তারা ব্যাংকগুলাকে নষ্ট করে দিয়ে জনগণের টাকাগুলোকে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এই মালিকদের হাতে আর ব্যাংক তুলে দেওয়া যাবে না।

অথচ গতকাল সরকার একটা আইন করলো, সে আইনটা হচ্ছে কি? আইনটা হচ্ছে যদি ৭ পার্সেন্ট, ৭ পার্সেন্ট টাকা ফেরত দেয়, আপনার ৩৬ হাজার, ৮২ হাজার কোটি টাকা ৩৬ হাজার কোটি টাকার ৭ পার্সেন্ট যদি উনারা ফেরত দেয়, তাইলে আবার তাদের কাছে মালিকানা বুঝায় দেওয়া হবে। তাইলে চিন্তা করেন! তারমানে আপনি টাকা ৮২ হাজার কোটি টাকা মারলেন, এখন সরকার এই ব্যাংকগুলাকে বাঁচানোর জন্য আবার ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিল। এখন আপনি মাত্র ৭ পার্সেন্ট টাকা ফেরত দিয়ে তারমানে হচ্ছে আড়াই তিন হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে আপনি আবার মালিকানা খুঁজে পায়ে যাবেন। তারমানে আপনি চুরির সময় চুরি করলেন, চুরি করার সময়… মানে এটা সিম্পল এটা বুঝানো হচ্ছে যেমন কেমন? যেমন যদি বলতে যাই, আপনার একটা দোকান আছে, এই দোকানে এক লক্ষ টাকা ছিল, আপনার এই এক লক্ষ টাকার পুঁজিটাকে আপনি হচ্ছে পুঁজিটাকে বিক্রি করে দিলেন। একদম আপনার লাভ তো করলেনই, পুঁজিটাকে বিক্রি করে দিলেন এক লক্ষ টাকায়, আপনি বিক্রি করে দিলেন নিজের মতো করে খরচ করে ফেললেন এই এক লক্ষ টাকা সরায়ে নিলেন।

তখন কী করলো সরকার? আপনার দোকানটা যেন টিকে থাকে, কাস্টমার যেন এটলিস্ট দোকানে আসতে পারে, দোকানটা যেন টিকে থাকে সরকার আবার ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলো, যে তোমাকে দিলো যে ভাই তুমি দোকানটাকে কোনরকমে টিকায় রাখো। সরকার আপনাকে ফেরত দিলো এবং বললো কি আগের যেই মালিক যে এক লক্ষ টাকা নিয়ে পালায় গেছে তাকে কোনভাবেই আর এই দোকানের মালিকানা বুঝায় দেওয়া হবে না। এখন এই সরকার কী করলো? এই সরকার আসার পরে ওই মালিককে আবার এখন সুযোগ দিলো যে, তুমি যদি মাত্র ৭ পার্সেন্ট টাকা ফেরত দাও, মাত্র সাত হাজার টাকা ফেরত দাও তাইলে তোমাকে আবার মালিকানা বুঝায় দেওয়া হবে। তারমানে ওই দোকানদার এক লক্ষ টাকাও খাইছে, পরবর্তীতে সরকারের ৫০ হাজার টাকাও পাইছে, এখন মাত্র সাত হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সে এখন এই দোকানের মালিকানা বুঝে পাইবে।

মানে এত মানে মানে অযৌক্তিক, অবিবেচনাপ্রসূত কোন সিদ্ধান্ত হইতে পারে? মানে বিএনপি থেকে আমরা পাইতে পারি? মানে এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। তারমানে আপনি দেড় লক্ষ টাকা মানে এক লক্ষ টাকা তো এটা আপনি নিয়েই গেলেন জনগণ থেকে, সরকার আবার আপনাকে ৫০ হাজার টাকা দিলো এটাকে বাঁচায়ে রাখার জন্য। এখন মাত্র আপনি সাত হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আপনি এই ব্যাংকের মালিকানা বুঝে পাবেন। সরকার এই ধরনের একটা কালো আইন করলো কাকে খুশি করার জন্য? এস আলমকে খুশি করার জন্য। কাকে খুশি করার জন্য? রাষ্ট্রের মাফিয়াদেরকে খুশি করার জন্য। যেটা বিএনপি থেকে খুবই আনএকসেপ্টেবল একটা হচ্ছে মুভ।

এই এটিটিউডটা যদি অব্যাহত থাকে, আপনি দেখেন বিএনপির আপনি যিনি এইচপিএম, অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার তারেক জিয়া উনার মুভমেন্টগুলা যদি আপনি দেখেন। উনার মুভমেন্ট হচ্ছে আপনি দেখবেন খুবই একোমোডেটিভ। মানে খুবই একোমোডেটিভ। আপনি দেখবেন খুবই সুন্দর পেয়ার স্টান করতেছে, এই প্রোগ্রামে যাচ্ছে ওই প্রোগ্রামে যাচ্ছে, খুবই ডিসেন্ট এবং হচ্ছে ইনক্লুসিভ একটা মুভ দিচ্ছে। কিন্তু অ্যাক্টিভিটিগুলা যদি আপনি দেখেন। বিএনপির অ্যাক্টিভিটিগুলা লাস্ট দুই মাসে, নাম্বার ওয়ান অ্যাক্টিভিটি বাংলাদেশ ব্যাংকে যেভাবে দখল করা হলো। এই অ্যাক্টিভিটিটা যদি আপনার চোখে পড়ে, বিসিবিকে যেভাবে দলীয়করণ করা হইলো, স্থানীয় সরকারকে যেভাবে ধ্বংস করা হইলো, মানবাধিকার কমিশনকে যেভাবে বাতিল করে দেওয়া হইলো, পুলিশ সংস্কার কমিশনকে বাতিল করে দেওয়া হইলো, সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়কে বাতিল করে দেওয়া হইলো, এরপরে হচ্ছে আপনার এই ব্যাংকগুলোকে আবার দখল করার জন্য দখলবাজদেরকে যেই সুযোগটা দেওয়া হইলো।

এই অ্যাক্টিভিটিগুলা যদি আপনি একসাথে করেন, তাহলে আপনার কাছে যেই বার্তাটা যায়, এই বার্তাটা কখনোই ইতিবাচক কোন একটা বার্তা না। এই একটিভিটিগুলা যদি আমরা একসাথে যোগ করি তাহলে যে বিএনপির চেহারাটা দাঁড়ায়, এই বিএনপির চেহারাটা যদি বেগম জিয়া বেঁচে থাকতেন নিশ্চয়ই উনি সেটার জন্য উনি অবশ্যই দুঃখ পাইতেন, কষ্ট পাইতেন।

উনি বেঁচে থাকলে কখনোই এভাবে মানে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হইতো না। উনি জুলাই জাদুঘরকে যেভাবে বিএনপি দলীয়করণ করার জন্য সবার দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে যেভাবে একটা জালিয়াতির একটা আশ্রয় নিয়েছেন সেটা ম্যাডাম যদি বেঁচে থাকতেন উনি অবশ্যই অবশ্যই সেটার জন্য লজ্জিত হতেন। সার্বিকভাবে বিবেচনায় আপনি যদি দেখেন বিএনপির লাস্ট দুই মাসের মুভ এবং বিরোধী দল আকারে আমরা আমাদের এই সংসদে আমাদের কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার যে বিষয়টা, আমাদেরকে শাহবাগ দেখানো হচ্ছে যে, অর্থাৎ আপনি যদি কথা বলতে চান আপনি শাহবাগে যান। শাহবাগে আপনি যা ইচ্ছা তা বলতে পারবেন, এটা পার্লামেন্ট এখানে আপনি যা ইচ্ছা তা বলতে পারবেন না। এখানে শুধুমাত্র সেটাই বলা যাবে আপনি ভাই আপনি বিরোধী দল, আপনি মাত্র এই কয়টা সিট নিয়ে আসছেন, আপনি আবার এত বেশি সময় পাবেন কেন? আপনারে ভাই আপনি একজন ৪০ মিনিট ধরে উনি ক্লাস নিতে পারেন সেখানে আমাদেরকে সময় দেওয়া হয় দুই মিনিট। রেকর্ডে আছে, আপনি যদি দেখেন আমরা যখন একটা বিলের বিরুদ্ধে দাঁড়াইলাম, মানবাধিকার কমিশনের বিলের বিরুদ্ধে দাঁড়াইলাম, আমাকে সময় দেওয়া হইলো যে মিস্টার আব্দুল্লাহ আপনার সময় দুই মিনিট। আর এটার রিভার্টাল যখন আসাদুজ্জামান সাহেব দিলেন, উনি ২৫ মিনিট প্লাস হচ্ছে উনি রিভার্টাল দিলেন।

তারমানে উনার কোন সময়ের মানে নাই, উনি যতক্ষণ ইচ্ছা কথা বলতে পারবেন। উনি দাঁড়াইলে উনার মাইক অন করবেন, উনি সালাউদ্দিন সাহেব দাঁড়াইলে উনার মাইক অন হবে এবং উনারা রেকর্ডের জন্য উনারা সবকিছু বলতে পারেন। কিন্তু আমাদের রেকর্ডের জন্য আমাদের মাইক অন করা হয় না। আমরা ৫০ বার ২০ বার শুরু থেকে যদি হাত তুলে রাখি আমাদেরকে এই সময়টা দেওয়া হয় না, এটা নাকি সংসদের রেওয়াজ। তো সংসদের রেওয়াজ এবং সংসদের আইন আসলে কোনটা কি সবগুলাই হচ্ছে সরকার যেভাবে চাইবে সেটাই। যেটা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যেটা আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।

প্রিয় বাংলাদেশবাসী, আপনারা আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে আপনারা কিছু এক্সপ্লেনেশন ডিজার্ভ করেন। কারণ দিন শেষে আমরা কিন্তু আমরা হচ্ছি দিন শেষে কোন না কোনভাবে আমরা বেনিফিটেড। আমরা যারা ক্ষমতায় আমরা যারা চেয়ার পেয়েছি, আমরা যারা মন্ত্রী হয়েছি, আমরা যারা এমপি হয়েছি, আমরা কোন না কোনভাবে বেনিফিটেড। এটা নিঃসন্দেহে এটা বলার কোন সুযোগ নাই। আমরা বেনিফিটেড। কিন্তু যারা জীবন দিয়েছে, যারা আত্মত্যাগ করেছে, যারা রাস্তায় নেমে এসেছিল, যারা হচ্ছে জুলাইয়ে… ওহ আরেকটা ইম্পরট্যান্ট বিষয়, জুলাইয়ের কথা মনে হওয়াতে। খুবই পুওর স্ক্রিপ্টেড একটা নাটক বিএনপি আপনারা হচ্ছে পার্লামেন্টে করছে। খুবই পুওরলি স্ক্রিপ্টেড। সেটা হচ্ছে কি? উনারা বলতেছে বারবার বলতেছে ওরা জুলাই সনদের পক্ষে। মানে বারবার কিন্তু বলতেছে জুলাই সনদের পক্ষে, আমরা প্রত্যেকটা দাড়ি কমা সহ আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো। তো আমরা যখন বলতেছি যে জুলাই সনদের অর্ডারটা আপনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে তখন যেটা হইলো উনারা একদিন একটা নাটক সাজাইলো।

উনাদের পন্থী কিছু ছাত্রদল, যুবদল সহ অনেকেই আছে যে তাদের এই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল সমানভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আত্মত্যাগ ছিল, তাদের দীর্ঘ লড়াই ছিল, তাদের দীর্ঘ হিস্ট্রি ছিল। তো উনারা কী করলেন, কিছু সিলেক্টিভ আহতকে কিছু কিছু সিলেক্টিভ একদম সিলেক্টিভ কিছু আহতকে বিরোধী দলীয় যেই গ্যালারিটা আছে সেই গ্যালারিটাতে এনে বসাইলো। এবং উনাদেরকে বলে দেওয়া হইলো পরবর্তীতে উনাদের মধ্যেই অনেকগুলো আহত আমাদের কাছে আসছে যে, ভাই আমরা তো বুঝি নাই যে আসলে আমাদেরকে কী কারণে নিয়ে আসা হইছে। আমাদেরকে জাস্ট বলা হইছে আপনাদেরকে গাদ্দার বলার জন্য এবং আপনাদেরকে যেন আমরা বেশিং করি, আপনাদেরকে যেন আমরা হচ্ছে ওখান ওখান থেকে আপনাদেরকে বেশিং করি এবং আপনাদের বিরুদ্ধে যেন আমরা স্লোগান দেই।

এই স্ক্রিপ্টটা বিএনপির জন্য মানে শোনেন, আপনারা বিএনপির যারা আছেন ২১৭ জন এমপি আছেন, ইট ডাজন্ট ম্যাটার। আপনারা হচ্ছেন সরকারে আছেন ইট ডাজন্ট ম্যাটার। মানে ধরেন কি করতে পারবেন, ম্যাক্সিমাম গুম করে ফেলতে পারবেন, উঠায় নিয়ে যেতে পারবেন বাসা থেকে, এই জার্নিটা এখানে থামায় দিতে পারবেন। সো হোয়াট? ভাই মানে জীবনে তো ধরেন আপনার মানুষ যদি মানুষের সাথে যদি কানেক্টেড থাকি, মানুষ যদি আস্থা রাখে বিশ্বাস রাখে এর থেকে বড় প্রাপ্তির আর কিছুই নাই।

আপনারা ওইদিন যেই স্ক্রিপ্টটা সাজাইলেন, আপনারা যে নাটকটা সেদিন সংসদে করলেন এবং উনারা আমরা দেখলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক আহতের সাথে একজন একজন করে কথা বললেন। কথা বলে আসার পরেই ওই আহতরা ওই গ্যালারি থেকে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ওখানে আপনারা দেখলেন এটা সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে এবং উনারা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গালাগালি দিলেন। আমরা উনারা বললেন আমরা জুলাই সনদ চাই, আমরা জুলাই সনদ চাই, বিএনপি যেভাবে চায় আমরা সেভাবে চাই। তো আমরা জিজ্ঞেস করলাম বিএনপি কীভাবে চায় বলেন তো? তো উনারা বললেন না আমরা এত কিছু বুঝি না বিএনপি যেভাবে জুলাই সনদ চায় আমরা সেভাবে চাই। এর মাঝখানে তিন চারজন আছে আমাদের কাছে আইসা বললো যে ভাই, আমরা খুবই দুঃখিত আমরা আপনাদের সাথে এভাবে আচরণ করার কারণে। কিন্তু আমাদেরকে এভাবেই বলা হইছে। আমাদেরকে বলা হইছে আমরা যেন আপনাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেই, আমরা যেন আপনাদেরকে হচ্ছে ওখানে অপমান করি, আমরা যেন আপনাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কথাগুলো বলি।

মানে ইটস ভেরি আনফরচুনেট, মিস্টার তারেক জিয়া, অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার তারেক জিয়া ইটস ভেরি আনফরচুনেট। আপনি পার্লামেন্টে থাকা অবস্থায় এই ধরনের একটা নাটক করা হবে এবং এটার ডিরেকশন আপনি দিবেন। মানে আমি জানি না এটার স্ক্রিপ্ট রাইটার কে ছিল, এটার কোরিওগ্রাফার কে ছিল, এটার হচ্ছে ডিরেক্টর কে ছিল আমি জানি না। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করতে স্টিল চাই না যে এখানে আপনার এখানে কোন ধরনের আপনি ব্যক্তিগতভাবে এখানে এটার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু এটা যদি হয়ে থাকে এটা ভেরি আনফরচুনেট। এটা আপনার জন্য এটা আপনার জন্য একটা ডিসক্রেডিট। কারণ আপনি এই ধরনের একটা মানে সংসদে যারা মানে বিএনপি পন্থী জুলাই, জামায়াত পন্থী জুলাই যোদ্ধা এভাবে ক্লাসিফিকেশন করবেন এবং তাদেরকে দিয়ে প্রেস কনফারেন্স করিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলাবেন এবং তারা পরবর্তীতে এসে তারা বুঝবে তারা স্বীকার করবে যে তাদেরকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এর থেকে দুঃখজনক মিস্টার তারেক জিয়া, অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আর কিছু হইতে পারে না। এবং এটা আপনার জন্য খুবই ডিসগ্রেস, আপনার জন্য ডিসগ্রেস। আপনি আমি একজন পলিটিশিয়ান, আমি হচ্ছে এই একই সংসদে বসি এবং আমার কাছে মনে হয়েছে লাস্ট এক মাসের এক্টিভিটিতে আমাকে অবশ্যই কথা বলতে হবে।

কথা বলতে হবে এবং আপনারা যেই কাজটা করেছেন আমি জানি না কে এটার স্ক্রিপ্ট রাইটার ছিল, কে এটার ডিরেক্টর ছিল। এটা যদি আপনারা করে থাকেন এই যে জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে যেই বিভাজন আপনারা করলেন এবং তাদেরকে যেভাবে রাজনৈতিক টুল হিসেবে আপনারা ব্যবহার করলেন, এটা আপনার জন্য আপনার এটাতে আপনার লজ্জিত হওয়া উচিত। এবং আমি বিশ্বাস করতে চাই এক্ষেত্রে আপনি এক্ষেত্রে কোন ধরনের হচ্ছে আপনার নিজস্ব কনসেন্ট ছিল না।

আর আপনাকে যারা বুঝিয়েছে, এই স্ক্রিপ্ট রাইটার যারা ছিল, ডিরেক্টর যারা ছিল তারা আপনাকে বিপদে ফেলবে, তারা আপনাকে বিপদে ফেলবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!