ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

অর্থাভাবে আটকে ছিল চিকিৎসা, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও পান্না আক্তার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

অর্থাভাবে আটকে ছিল চিকিৎসা, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও পান্না আক্তার

একসময় পৃথিবীটা দেখতে পেতেন নাছিমা আক্তার। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে হার মেনেছে তাঁর চিকিৎসা, আর ধীরে ধীরে নিভে গেছে চোখের আলো। দিনমজুর ও রিকশাচালক বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় হয়ে ওঠে অসম্ভব। শেষ আশ্রয়ের খোঁজে বাবার হাত ধরে তিনি পৌঁছান উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারের কার্যালয়ে। তাঁদের কথা শুনে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার উদ্যোগ নেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আশার আলো দেখতে শুরু করে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের উত্তর পুকুরিয়া গ্রামের বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী নাছিমা আক্তারকে নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান তাঁর বাবা জহির আহমদ। তাঁদের দেখে ইউএনও পান্না আক্তার নিজের আসন ছেড়ে এগিয়ে যান, নাছিমাকে পাশে বসিয়ে মনোযোগ দিয়ে পরিবারের সমস্যার কথা শোনেন।

নাছিমার জন্ম ২৭ অক্টোবর ২০০৪। দিনমজুর ও রিকশাচালক জহির আহমদ এবং গৃহিণী আনোয়ারা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। দীর্ঘদিন ধরে বাম চোখে তিনি দেখতে পান না। ডান চোখে সামান্য দৃষ্টিশক্তি থাকলেও সেটিও হারিয়ে যাওয়ার পথে।

পরিবার জানায়, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে নাছিমার বাম চোখে অস্ত্রোপচার করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ধার-দেনা ও মানুষের সহায়তায় সেই অর্থের ব্যবস্থা করলেও অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তি ফেরেনি। পরে চট্টগ্রামের লায়ন চক্ষু হাসপাতালে আরও একটি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৩০ হাজার টাকার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা আর এগোয়নি।

বর্তমানে নাছিমার নিয়মিত চোখের ড্রপ ও ওষুধ প্রয়োজন। এসব কিনতে প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাঁর বাবা। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতা মিললেও এখন সেই সহায়তাও অনেকটাই বন্ধ।

ইউএনওর কাছে নাছিমা জানান, অর্থাভাবে সময়মতো চিকিৎসা করাতে না পারায় তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছে এবং নিয়মিত ওষুধও কিনতে পারছেন না।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও পান্না আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে সমাজসেবা বিভাগের তথ্যভান্ডারে নাছিমার তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। যাচাইয়ে দেখা যায়, তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তালিকাভুক্ত একজন প্রতিবন্ধী। এরপর ইউএনও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডিডিকে (CDD) নাছিমার চক্ষু পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। নাছিমার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”

জহির আহমদের পরিবারের এখন একটাই প্রত্যাশা—সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে অন্তত নাছিমার অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তিটুকু রক্ষা করা সম্ভব হবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন