সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গামছা ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে বেঁধে এবং দুই শিশুসন্তানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পাইকোশার লাহিড়ীবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নূরুল ইসলাম ওই এলাকার গামছা ব্যবসায়ী।
তবে ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে চুরির ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, এটি পরিকল্পিত ডাকাতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গামছা বিক্রির কাজে নূরুল ইসলাম গত সোমবার ঢাকায় যান। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী শরিফা বেগম (৩৪), মেয়ে সামিয়া (৮) ও ছেলে রিজওয়ান (৪) অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে জানালার গ্রিল কেটে তিনজন দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘরে ঢুকে একজন শরিফা বেগমের গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে গামছা ও স্কচটেপ দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত বেঁধে রাখা হয়। এ সময় অপর একজন দুই শিশুকে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের দাবি, সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার, সাত ভরি রুপার অলংকার, নগদ ৩০ হাজার টাকা, ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল খোয়া গেছে। তাদের হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি।
ঘটনার পর শরিফা বেগমের মেয়ে সামিয়া তাঁর মায়ের মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। পরে শরিফার জ্ঞান ফিরলে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়।
ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছি। আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে আমার স্ত্রীকে বেঁধে রেখে ও সন্তানদের ভয় দেখিয়ে সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার, সাত ভরি রুপার জিনিস, নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। একইসঙ্গে আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্টসও নষ্ট করে ফেলেছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে দাবি করেন।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, ঘটনাটি চুরি হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে কী পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।






