ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদ মেম্বারের ছেলে আল আমিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার আজমপুর কড়ি গাছতলা এলাকায় আখাউড়া-বিজয়নগর সড়কের পাশে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন আল আমিন। প্রায় ১০ দিন ধরে সড়কের পাশে সামিয়ানা টানিয়ে দিন-রাত নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ের জায়গা দখল করে নির্মাণাধীন স্থাপনার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জানা গেছে, রেলওয়ের জায়গায় সামিয়ানা টানিয়ে নির্মাণসামগ্রী রেখে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে রেলওয়ের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজ বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন বলেন, আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগের মাধ্যমে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য রেজাউলকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। ওই টাকা দেওয়ার পর তাকে বলা হয়েছিল, নির্মাণকাজের সময় কেউ বাধা দেবেন না। তবে পরে বাধা দেওয়ায় তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আল আমিনের এ বক্তব্য অস্বীকার করেছেন আরএনবি সদস্য রেজাউল। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি এসব কাজে জড়িত নই।’
লামিয়া স্টোরের মালিক সোহাগ বলেন, ‘এখানে প্রায় দেড়শোর মতো দোকান রয়েছে। অন্যরা যেভাবে দোকান করেছে, তিনিও সেভাবেই করেছেন। আমাকে শুধু পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। কীভাবে কী করেছে, সেটা আল আমিনই ভালো জানেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।’
স্থানীয় ৬ নম্বর ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘রেলওয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কীভাবে জায়গাটি দখল করে নির্মাণকাজ করা হয়েছে, সেটা আল আমিনই ভালো বলতে পারবেন।’
আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রেলওয়ে ফিল্ড কাননগো মো. শহিদুজ্জামান বলেন, ‘রেলওয়ের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। জায়গাটি পরিদর্শন করে তাকে প্রাথমিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কাজ বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আখাউড়া সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এ.ই.এন) আবু হানিফ পাশা বলেন, ‘রেলওয়ের জায়গায় কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। বিষয়টি আমরা জেনেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘রেলের জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। কেউ দখল করে ঘর বা দোকান নির্মাণ করে থাকলে সে অপরাধ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






