“আমি কখনো বাস্তবে ইয়াবা দেখিনি। আগের এমপিরা এখানে মাদক ব্যবসা করেছেন, তাই এখন উখিয়া-টেকনাফের এমপি হিসেবে মানুষ আমাকেও মাদক ব্যবসায়ী বলে। মাদক কারবারিদের ধরে ধরে মারেন। আপনাদের পক্ষে আমরা আছি, পুলিশ আছে, ইউএনও আছে”—এমন মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
আজ শনিবার দুপুরে টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত’ উপজেলা ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এমপি শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, “এখন উখিয়া-টেকনাফের মানুষ বললেই সবাই মনে করে মাদক ব্যবসায়ী। এই দুর্নাম ঘুচাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
টেকনাফ উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করে তিনি বলেন, “এটি কার্যকর করতে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক ও তরুণ সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
স্বাগত বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কক্সবাজার এরিয়া কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিম জানান, সংস্থাটি ২০১৯ সাল থেকে টেকনাফে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করার অর্থ এই নয় যে এখন থেকে এখানে বাল্যবিবাহ বা শিশুশ্রমের কোনো ঘটনা ঘটবে না। তবে এখন থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধেও সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এসময় টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।






