রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ইতোমধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর ৫৬(৩), প্রথম স্ট্যাটিউটস-এর ৪৫(৩) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশন চ্যাপ্টার ২০-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে অপতৎপরতায় জড়িত। বিষয়টি ঢাবি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাবি সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী বা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে দায় এড়াতে পারবেন না।
শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বার্তা বাজার/আইকে






