ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বললেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির চিন্তা, বক্তব্য ও আদর্শ দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’ বইয়ের সম্পাদকীয়তে তিনি এ কথা বলেন।
মুসাদ্দিক আলী লেখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদি আমাদের পথ চলার পাথেয়, আমাদের সাহসের বাতিঘর। ওসমান হাদির আজন্ম লড়াই ছিল এই দেশকে কালচারাল ফ্যাসিবাদমুক্ত করা, কালচারাল মাইনরিটি ডানপন্থী বাঙালি মুসলমানদেরকে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসা, শক্তিশালী করে তোলা এবং জুলাইয়ের বয়ানকে কালচারালি শক্তিশালী করা।’
তিনি লেখেন, ‘৫ আগস্টের পরপরই সবচেয়ে শক্তিশালী যে লড়াই শুরু হয়েছিল, সেটি হচ্ছে কালচারাল ফ্যাসিজমের জুলাইকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের কালচারাল বয়ান নির্মাণের লড়াই । সেই লড়াইয়ে কালচারাল যোদ্ধাদের যে ধরনের অংশগ্রহণ থাকার দরকার ছিল, সে তুলনায় খুব বেশি অংশগ্রহণ আমাদের চোখে পড়েনি । ওসমান হাদি এখানে ছিলেন নিঃসঙ্গ শেরপা। একলা পথের পথিকের মতো তিনি হেঁটে গিয়েছেন।’
সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘তিনি যেভাবে জুলাইকে কালচারালি শক্তিশালী করার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং যেভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদী এস্টাবলিশমেন্টকে রুখে দিয়ে নতুন কালচারাল বয়ান নির্মাণের প্রচেষ্টা দেখিয়েছেন, সেটি ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের সহ্য হয়নি। সেজন্যই তারা শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে খুন করে তার অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে দিতে চেয়েছে।’
মুসাদ্দিক আলী লেখেন, ‘আমরা যারা শরিফ ওসমান হাদির সহযোদ্ধারা বেঁচে আছি, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ওসমান হাদির অসম্পূর্ণ কালচারাল বিপ্লবকে পরিপূর্ণ বিপ্লবে পরিণত করা। আর সেই লক্ষ্যে শহীদ ওসমান হাদির বয়ান ও চিন্তাকে পথনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তার চিন্তাগুলোকে লিপিবদ্ধ করা এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা অতীব জরুরি ছিল।’






