ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এখনো সবচেয়ে এগিয়ে যিনি, তালিকা প্রকাশ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এখনো সবচেয়ে এগিয়ে যিনি, তালিকা প্রকাশ

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এখনো সবচেয়ে এগিয়ে যিনি, তালিকা প্রকাশ

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স যেন নতুন করে হিসাবটা বদলে দিয়েছে। স্পেনের শিরোপা জয়ে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। ক্লাব মৌসুমের শুরুতেও এখন তাদের পারফরম্যান্সের দিকে থাকবে বাড়তি নজর।

তবে ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এখনো সবচেয়ে এগিয়ে হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসাধারণ গোলস্কোরিং মৌসুমের পর বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। নতুন মৌসুমের শুরুতেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অক্টোবরের পুরস্কার বিতরণীতে দলীয় সাফল্যের চেয়েও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় প্রশ্ন।

বিশ্বকাপে অবশ্য বয়সকে যেন ভুল প্রমাণ করেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন আট গোল করে। একপর্যায়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটও উঠেছিল তার মাথায়, পরে তাকে ছাড়িয়ে যান কিলিয়ান এমবাপে। ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্যাম্পিওনেস কাপ জয়ে মেসির অবদানের পর তাকে ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেছেন ডেভিড বেকহামও।

৫. লিওনেল মেসি

মেসি আবারও পারবেন—এই প্রশ্নটা হয়তো অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তার নাম থাকা প্রমাণ করে, এই পুরস্কারের হিসাব বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব এখনো তার আছে। ৩৯ বছর বয়সে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন মেসি। স্পেনের কাছে ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারলে হয়তো এই তালিকায় তার অবস্থান আরও ওপরে থাকত।

২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন তিনি, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের ১০ মাস পর। তখন তিনি ইতোমধ্যে ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড়। এবারও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, পুরস্কারের বিচারকদের কাছে তার দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ অধ্যায়ের আবহ—সব মিলিয়ে মেসিকে পুরোপুরি হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।

৪. রদ্রি

বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। রক্ষণ সামলে আক্রমণ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে পুরো দলের খেলায় ছন্দ ধরে রাখা—সবকিছুতেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর একটা সময় মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয়বার ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে রদ্রির বড় সুবিধা হয়ে উঠতে পারে এই পুরস্কার। তবে তার ক্লাব মৌসুমের হিসাবটা ততটা উজ্জ্বল ছিল না। চোট কাটিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে ফেরার পর ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছে। দলটি এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পায়নি।

নতুন মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে মাত্র একবার পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেছেন রদ্রি। ফলে বিশ্বকাপের সেই প্রভাবকে ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিকতা দিয়ে আরও জোরালো করার সুযোগ তিনি এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি। 

৩. লামিনে ইয়ামাল

১৯ বছর বয়সেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার পাশাপাশি দুটিতেই চ্যাম্পিয়ন—ইয়ামালের ক্যারিয়ারে এমন অর্জনের তালিকা এরই মধ্যে দীর্ঘ হচ্ছে। ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়া এই তরুণ এবার প্রথমবারের মতো পুরস্কারটি জেতার দৌড়েও শক্ত অবস্থানে আছেন। 

বিশ্বকাপে নিজের মানদণ্ড অনুযায়ী গোল-অ্যাসিস্টের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও স্পেনের পুরো অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইয়ামাল। তবে ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স তার দাবিকে আরও শক্ত করেছে। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। নতুন মৌসুমেও শুরুটা দুর্দান্ত—প্রথম সাত ম্যাচে আট গোল।

২. কিলিয়ান এমবাপে

২৭ বছর বয়স হয়ে গেলেও এখনো ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি এমবাপের। অথচ বছরের পর বছর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ফরাসি তারকা এবারও পুরস্কারের অন্যতম বড় দাবিদার। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন এমবাপে। টুর্নামেন্টে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেরিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ওঠার পর পরে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। যদিও গোল্ডেন বলের দৌড়ে মেসি ও এমবাপে—দুজনেরই সমান জোরালো দাবি ছিল।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে নানা বিতর্ক ও চাপের মধ্যেও পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েনি। ৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪২ গোল। দলের হাতে কোনো বড় ট্রফি না উঠলেও এমবাপের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল দুর্দান্ত।

১. হ্যারি কেইন

বিশ্বকাপে নিজের সেরা ছন্দ দেখাতে না পারলেও হ্যারি কেইন এখনো ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শীর্ষে। এর মূল কারণ গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার অবিশ্বাস্য গোলস্কোরিং পারফরম্যান্স। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন কেইন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বায়ার্ন জিতেছে লিগ ও কাপ—দুটি শিরোপাই। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি দলকে ডাবল জেতানোর ক্ষেত্রে ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন।

বিশ্বকাপেও পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন না ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ছয় গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করা জোড়া গোলও ছিল। তার পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ ফল পেয়েছে।

নতুন মৌসুমেও শেষ দুই ম্যাচে করেছেন দুই গোল। ফলে ক্লাব ফুটবলে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিশ্বকাপের প্রভাবকে কিছুটা পাশ কাটিয়েও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে কেইনের।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন