নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপে কুমিল্লা, ভোলা ও যশোরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে একে অপরকে দায়ী করেছে বিএনপি ও জামায়াত।
🟠 কুমিল্লা-১১: জনসভা শেষে ফেরার পথে সংঘর্ষ, আহত ৭
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী জনসভা শেষে নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়ি ফেরার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে
- 🟢 জামায়াতের প্রার্থী: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
- 🔵 বিএনপির প্রার্থী: কামরুল হুদা
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের অভিযোগ, আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিএনপির কয়েকজন নেতা উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের চার কর্মী ধারালো অস্ত্রে আহত হন।
অন্যদিকে বিএনপি দাবি করেছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে বিএনপির নেতা ও তাঁর গাড়িচালকসহ তিনজনকে আহত করেছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

🟠 ভোলা-২: প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে টবগী ইউনিয়নের চৌকিদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভোলা-২ আসনে
- 🔵 বিএনপির প্রার্থী: হাফিজ ইব্রাহিম
- 🟢 জামায়াতের প্রার্থী: মাওলানা ফজলুল করিম
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের প্রচার দল এলাকায় প্রবেশ করলে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় জামায়াতের ইউনিয়ন আমিরসহ ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও পাঁচজন কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, স্থানীয় নারীদের সঙ্গে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের কর্মীরাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
🟠 যশোর-২: নারী কর্মীদের প্রচার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১০
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর বিকেলে জামায়াতের নারী সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
যশোর-২ আসনে
- 🟢 জামায়াতের প্রার্থী: মোসলেউদ্দিন ফরিদ
- 🔵 বিএনপির প্রার্থী: সাবিরা নাজমুল
জামায়াতের নারী কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারে গেলে বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে দুই পক্ষের কর্মীরা জড়ো হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
উভয় দলের প্রার্থীরা ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন।
⚠️ সার্বিক পরিস্থিতি
তিনটি আসনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।






