ঢাকা   সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইমামের মেয়ে অপহরণের ঘটনায় ওসির প্রত্যাহার চাইলেন হেফাজতের নেতা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২২ এএম

ইমামের মেয়ে অপহরণের ঘটনায় ওসির প্রত্যাহার চাইলেন হেফাজতের নেতা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি শামীম আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা যখন মামলা নিয়ে যাই, তখন স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফোন দিয়ে ইমামের মেয়ের ঘটনা জানাই। তখন ওনাকে অনুরোধ করি শ্রীপুর থানার ওসি সঙ্গে কথা বলার জন্য। তখন উনি আমার মোবাইল দিয়েই ওসিকে বলে দেন আসামিদের গ্রেফতার করেন সে যে দলেরই হোক, আমার আত্মীয় হলেও তাকে গ্রেফতার করেন। এমপির নির্দেশ দিলেও পুলিশ আসামি গ্রেফতার করতে গড়িমসি করেছে। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ইমামের মেয়েকে নিয়ে অপহরণকারীর সঙ্গে প্রেমঘটিত নাটক ওসি সাজিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা গাফিলতি করেছে ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদের প্রত্যাহার চাই। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই লাল চাঁনেরও প্রত্যাহার চাই। তাদের কাছে আমাদের এই মামলা থাকা নিরাপদ মনে করি না। ওসি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে।’

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি মসজিদের ইমামের মেয়েকে অপহরণের ঘটনায় উপজেলা হেফাজতে ইসলামের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মুফতি শামীম আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে আমাদের মাওলানা সফিকুল ইসলাম রহমানি মাওনা চৌরাস্তায় শ্রীপুর উপজেলা শিল্পাঞ্চল শ্রমিক দলের সভাপতি কাজল ফকিরের সামনে বসা ছিল। ওই মুহূর্তে ওসি কাজল ফরিকেরকে ফোন দিয়ে বলে দেয় আপনার ছেলেকে সরিয়ে রাখেন। একজন ওসি কি এ কাজ করতে পারে? ওসি সাহেব ছুটতে থেকে এ কথা বলেছে। এ জন্য আমরা যথাসম্ভব তাদের (থানা পুলিশের) সহযোগিতা পাই নাই। আমরা তাদের প্রত্যাহার চাই। শ্রীপুর থানা থেকে তাদের প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ওসির বিচার চাই। আমরা গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সাহেবকেও বলেছি। শ্রীপুরের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আমরা আন্দোলনের ঘোষণা দেবো।’

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘আপনারা জানেন আমার মেয়ে ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে। আমার মেয়ে দুপুর ১টা বেজে গেলেও যখন বাসায় আসতেছে না তখন মেয়ের সহপাঠীদের কাছ থেকে জানতে পারলাম মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে তাকে (১৬) প্রধান আসামি আবিদ ধরে নিয়ে গেছে। আমার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর ওসি সাহেব ফোন দিয়ে বলে, আমার ফোর্স গেছে? তখন আমি বললাম, স্যার আপনার ফোর্সের দরকার নাই। আমার যা নেওয়ার সব নিয়ে গেছে, আমার কলিজা নিয়ে গেছে। আমার দেহ আছে, আপনার ফোর্স পাঠান আমার দেহের পোস্টমর্টেম করুক। পরে আমার সহকর্মী মুফতি-মাওলানাদেরকে নিয়ে থানায় গেলে ওসি টালবাহানা করে। পরে মুফতি শামীম ভাইয়ের মোবাইল দিয়ে এমপি মহোদয় ওসির সঙ্গে কথা বলেন। এমপি মহোদয় ওসি সাহেবকে কঠিনভাবে বলার পরও ওই রাতে আমার মেয়ে উদ্ধার হয় নাই। রাত ৯টার দিকে আমার মামলা নিলেন। দুইদিন পার হওয়ার পর যখন জানতে পারলাম, অপহরণকারী আসামি আবিদকে সহযোগীতাকারী এবং অপহরণে নেতৃত্ব দেওয়া পাপ্পু এবং সোহান ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তখন আমি প্রত্যেক নেতাকর্মীদের কাছে গিয়ে অনুরোধ করি। তাদের দুই জনকে (পাপ্পু এবং সোহান) চাপ দিলে আমার মেয়ে উদ্ধার হবে।’
তিনি বলেন, ‘তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে দেখা হয় শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেবের সঙ্গে। তখন উপস্থিত শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজলের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনে তিনি বিস্মিত হয়ে বললেন সজল কী বলো? ঘটনার সময় তুমি উপস্থিত থাকতে এ ঘটনা ঘটালো কীভাবে? তখন তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। আগে মেয়েটাকে উদ্ধার করেন। পরে ওসি সাহেবের কাছে এলেই তিনি বলেন, এটা প্রেমঘটিত।’

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের তৎপরতার কারণে থানা পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। এক ঘণ্টা পর থানায় গিয়ে ওসির (তদন্ত) কক্ষে মেয়ে আমাকে দেখে বলে, বাবা তুমি এদেরকে বাঁচাইয়া দেও, অভিযোগ উঠিয়ে নেও। আমি তোমার লগে চইলা যামু। তখন আমি মেয়েকে বলি তুমি আর ভয় পাইও না দেশের সমস্ত মানুষ তোমার সঙ্গে আছে। পরে আদালতের মাধ্যমে আমার মেয়েকে আমার কাছে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় হলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমার মেয়ের নামে যে সমস্ত প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে এগুলো কিছু হলুদ মিডিয়া বিভিন্নভাবে সত্যকে অসত্য হিসেবে নানাভাবে প্রচার করছে। আমার মেয়ের জবানবন্দিতে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমি দ্রুত তাদের গ্রেফতার দাবি করছি। শ্রীপুর থানার ওসি তৎপর হলে আমার মেয়ে চারদিন পর উদ্ধার হয় না। ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদকে প্রত্যাহার করা হোক এবং আমার মামলা সুষ্ঠুভাবে সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেওয়া হোক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও ওসি বিভিন্নভাবে প্রবাহিত করেছে ওসি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি মাছুদুর রহমান, শ্রীপুর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসেন, বাগমারা জান্নাতুল আতফাল মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি কাজী মঈন উদ্দিন, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর পৌর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আবু নাছের মোহাম্মদ জুবায়ের, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!