বেনাপোল বন্দর পরিচালকের পদ শূন্য হয়েছে ৯ দিন আগে। শূন্য পদটি এখনো পূরণ হয়নি। এতে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
পরিচালকের পদ ছাড়াও বড় ধরনের জনবল সংকটে ভুগছে স্থলবন্দরটি। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শূন্য পদ পড়ে থাকলেও সেসব পদে জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ নেই।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এরই মধ্যে গত ৩ আগস্ট থেকে বন্দরের পরিচালকের পদ শূন্য। শীর্ষ পদে দ্রুত নিয়োগ না হলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা বাড়তে পারে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দরে উপপরিচালকর (ডিডি) মোট চারটি পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন উপপরিচালক। একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজের চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগ ও স্থানে সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সূত্র জানায়, বন্দরের গুদাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য মোট ২১৬টি পদ রয়েছে। কিন্তু এসব পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৪১ জন।
অনুমোদিত পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদে লোকবল নেই। ফলে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদাম এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানো এবং তদারকির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ পড়ছে বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে একদিকে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে, অন্যদিকে বন্দরের সক্ষমতাও বাড়বে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সেই কাঙ্খিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ঢাকায় অবস্থিত প্রধান দপ্তরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে উপপরিচালকের(ডিডি) অনুমোদিত পদ রয়েছে চারটি। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন। অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় সেখানে অতিরিক্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন ।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সঠিক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মকর্তা সংকট থাকলে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্খিত সেবা দিতে পারে না।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মতিউর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরে জনবল না থাকায় আমদানি করা পণ্য যথাসময়ে ওঠানো-নামানোর কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিনের কাজ কোনো কোনো সময় দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর (বিএলপিএ)-এর চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব) দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত জনবল নিয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা বাজার/ আইকে






