অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বেঁচে থাকলে আজ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিতেন।
নুর বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রণীত ওষুধনীতির কারণেই দেশের ওষুধ শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে এবং বাংলাদেশ এখন বিদেশেও ওষুধ রপ্তানি করছে। বাংলাদেশে ওষুধের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
শনিবার (৯ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
নুরুল হক নুর বলেন, ১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকারকে প্রভাবিত করে ওষুধনীতি গ্রহণে সহায়তা করেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সেই নীতির কারণেই আজ দেশের ওষুধ শিল্পে বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিদেশেও ওষুধ রপ্তানি করছে।
তিনি বলেন, যুগান্তকারী ওই নীতির কারণে ডা. জাফরুল্লাহকে মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগুনও দেওয়া হয়েছিল। তিনি একটি স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নেরও চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চিকিৎসক সমাজ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চাপের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
নুর বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বেঁচে থাকলে ইউনূস সরকারের ভুল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনের হুমকি দিতেন। ইন্টারিম গভর্নমেন্ট যে কাঠামোয় গঠিত হয়েছে, তিনি বেঁচে থাকলে তা এভাবে হতে দিতেন না। তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, এই সরকার কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে না। তখন তিনি দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে ভিন্ন ধরনের কাঠামোর প্রস্তাব দিতেন।
স্মৃতিচারণ করে নুর আরও বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ মনে করতেন, বিএনপির নেতৃত্বে জাইমা রহমানকে আনা উচিত। কারণ শেখ হাসিনা তারেক রহমানকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেবেন না। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য জিয়া পরিবারের একটি নেতৃত্ব প্রয়োজন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






