নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে এক হকারকে টাকা দেওয়ার ভিডিও নিয়ে গত দুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে গণসংযোগকালে ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার ওই দৃশ্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি নাকি মানবিকতা—এ নিয়ে যখন নেটিজেনরা বিভক্ত, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন এই আইনজীবী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটির ঘটনা সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল, এর সঙ্গে ভোটার প্রভাবিত করার কোনো সম্পর্ক নেই।
যা ঘটেছিল সেদিন
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির জানান, ঘটনাটি গত শনিবারের। তিনি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে ব্যক্তিগত গণসংযোগে নেমেছিলেন। পথিমধ্যে এক পান ও সিগারেট বিক্রেতার সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি জানতে পারেন, ওই হকারের সারাদিনে তেমন কোনো বেচাকেনা হয়নি। এই কথা শুনে মানবিক তাড়না থেকেই তিনি সবার সামনে ক্যামেরার উপস্থিতিতেই ওই হকারকে এক হাজার টাকা দান করেন।

ফেসবুকে দেওয়া ব্যাখ্যা
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি গত শনিবারে মিরপুর এলাকায়… একজন পান ও সিগারেট বিক্রেতার সাথে সাক্ষাতকালে জানতে পারি যে, তার সারাদিন তেমন বেচা বিক্রি হয় নাই। আমি সবার সম্মুখে ক্যামেরার সামনে এক হাজার টাকা দান করি মানবিক দিক বিবেচনা করে।”
তিনি আরও জানান, কেবল ওই হকারকেই নয়, একই স্থানে তিনি স্থানীয় কিছু শিশুকে ব্যাডমিন্টন খেলার র্যাকেট কেনার জন্যও অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন। সেই সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকে তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছিলেন, এই মানবিক সাহায্যকে যেন ভিন্ন কোনো রঙ দেওয়া না হয়।
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ
বাচ্চাদের র্যাকেট খেলার ভিডিওটি ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, হকারকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলকারনাইন সায়ের খান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম এই মানবিক সাহায্যকে অন্যভাবে প্রচার করার হীন চেষ্টা করেছেন।”
তিনি এ ধরনের কাজকে ‘দুর্বৃত্তায়ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাকে ও সকলকে এমন দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করুক।”
তবে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই ঘটনায় কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে মানুষ হিসেবে তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।




